শিরোনাম

ঢাকা, ৫ জুন, ২০২৬ (বাসস) : পরিবেশ দিবসে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ রক্ষায় মানববন্ধন করেছে শতাধিক পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রায় ৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবক।
পরিবেশবিষয়ক সংগঠন মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নেতৃত্বে ‘গাছ লাগাই, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ (৫)জুন দেশের বিভিন্ন জেলায় দিনভর এসব আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সহযোগী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সি-থ্রিইআর), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস), সোসাইটি ফর এশিয়ান সার্কুলার ইনোভেশন নেটওয়ার্ক, স্বপ্নপূরী কল্যাণ সংস্থা এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (পিএমআই)।
কর্মসূচির ট্র্যাকিং ও মনিটরিং পার্টনার হিসেবে রয়েছে সাসটেইনেবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেড (এসআরসিএল) এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের আরও প্রায় শতাধিক পরিবেশবান্ধব সংগঠন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার দিনভর দেশের প্রতিটি জেলায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচর্যার সুযোগ রয়েছে এমন স্থানে স্থায়ীভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে।
এছাড়া পরিবেশবান্ধব উপহার হিসেবে স্থানীয় দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে অন্তত ২টি করে ফলজ ও বনজ গাছ উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়।
একইসঙ্গে সারা দেশের জেলা শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে পরিবেশ রক্ষার দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আয়োজনের সহ-আয়োজক ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিল বলেন, ‘বিশ্বকে জলবায়ু পরিবর্তনের হাত থেকে বাঁচাতে হলে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, পরিবেশ বাঁচতে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বৃক্ষ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরিতেও আমাদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
সি-থ্রিইআর, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর রউফা খানম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বৈশ্বিক মঞ্চে পরিচিত। এই বাস্তবতায় কেবল প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা নয়, বরং মাঠপর্যায়ে কার্যকর এবং বাস্তবমুখী জলবায়ু পদক্ষেপ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৬৪ জেলায় একযোগে আয়োজিত এই কর্মসূচি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
বেলা’র পলিসি ও ক্যাম্পেইন কো-অর্ডিনেটর বারীশ হাসান চৌধুরী বলেন, ‘পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এই কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন করে তুলবে।’
মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, এই কর্মসূচি কেবল গাছ লাগানোর উদ্যোগ নয়, বরং একটি সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন। আমরা বিশ্বাস করি, একটি গাছ শুধু পরিবেশ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও সুরক্ষা দেয়।