বাসস
  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:০৫

সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরল্ড গুলব্রান্ডসেন। ছবি: পিআইডি

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরল্ড গুলব্রান্ডসেন।

আজ সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, নারী শিক্ষা, জেন্ডার সমতা অর্জন, রাজনীতি ও কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর ভূমিকা বৃদ্ধি, শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশুশ্রম নিরসন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয় স্থাপন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে মন্ত্রী নরওয়েকে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। একইসাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নরওয়ে সরকারের উন্নয়ন সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে সব ধরনের উন্নয়ন ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় জাহিদ হোসেন  বলেন, নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে বর্তমান সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে তৃণমূল নারীদের জীবনমান ও দক্ষতা বাড়াতে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ প্রদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সিড মানি দেওয়ার পাশাপাশি কর্মজীবী মায়েদের কষ্ট লাঘবে দেশব্যাপী ডে-কেয়ার সেন্টার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করলে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারী অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে নারীদের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য একটি করে কার্ড দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের কোনো সাধারণ ব্যয় নয়, বরং এটি একটি কার্যকর ও টেকসই সামাজিক বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ নারীরা পরিবারের পুষ্টিকর খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়, সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে সঞ্চয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।

এ সময় আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কেয়ার গিভার তৈরি ও বিদেশের বাজারে কর্মসংস্থান তৈরি, গ্রামীণ নারীদের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ইউরোপে রপ্তানি ও ডিএনএ ল্যাব আধুনিকায়নে নরওয়ের কারিগরি সহায়তা চান মন্ত্রী।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসব ক্ষেত্রে সহায়তার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নারী শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশি নারীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় সরকারি উদ্যোগগুলো আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।