শিরোনাম

ঢাকা, ২১ মে, ২০২৬ ( বাসস) : জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সকল তামাকপণ্যের ওপর মূল্য বৃদ্ধি ও সুনির্দিষ্ট কর আরোপের দাবি করা হয়েছে।
আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর-ডর্প আয়োজিত এক সভায় বক্তারা এ দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ছিল জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ।
তিনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের পাশাপাশি তামাকপণ্যে কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের খাদ্য ব্যয় বাড়লেও সিগারেট তুলনামূলকভাবে আরও সস্তা ও সহজলভ্য হয়ে উঠছে, যা বিশেষ করে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।
তিনি আরও বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদি ভোক্তা তৈরির উদ্দেশ্যে তরুণদের লক্ষ্যবস্তু করে থাকে। তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও কার্যকর কর আরোপের বিষয়টি তিনি সংসদে উত্থাপন করবেন এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সাথেও আলোচনা করবেন বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুঁই বলেন, একজন নারী সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন যে, তামাকের ক্ষতি শুধু ব্যবহারকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব নারী-শিশু ও পুরো পরিবারের ওপর পড়ে।
তিনি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নারী-শিশু ও তরুণ সমাজকে তামাকের ক্ষতি থেকে রক্ষায় সংসদে সোচ্চার ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
আরেক সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আজকের আলোচনায় উপস্থাপিত তথ্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, বিদ্যমান তামাক কর কাঠামোর কারণে সরকার বছরে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সুযোগ হারাচ্ছে।
তিনি সামাজিক আন্দোলনের পক্ষে মত দিয়ে বলেন, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কার্যকর তামাক করনীতি শুধু রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয় নয়, এটি তরুণদের তামাক আসক্তি থেকে সুরক্ষা দেওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় বলে তিনি মনে করেন।
সভায় উত্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও অতি উচ্চ-এই চার স্তরের সিগারেট বিদ্যমান। এর মধ্যে বাজারে বিক্রিত সিগারেটের প্রায় ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের। এই স্তরে তামাকপণ্য সস্তা হওয়ায় তরুণ জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহারে আসক্ত হয়ে থাকে।
এতে আরও বলা হয়, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকর কর আরোপের মাধ্যমে দাম বৃদ্ধি করে নিম্ন ও মধ্যম সকল স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে।
তামাকপণ্যে এই কর ও মূল্য প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা গেলে, ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি তরুণ জনগোষ্ঠীর অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডর্প-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এ এইচ এম নোমান।
সমাপনী বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন এবং সঞ্চালনা করেন উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান।