শিরোনাম

ঢাকা, ২১ মে, ২০২৬ (বাসস): প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর উদ্যোগে কম্বোডিয়ার একটি স্ক্যাম সেন্টার থেকে পালিয়ে আসা এক বাংলাদেশি নারী দেশে ফিরছেন।
একইসঙ্গে ইরাকে জব্দ থাকা সাত বাংলাদেশি শ্রমিকের পাসপোর্ট উদ্ধারেও ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।
দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, ৩৪ বছর বয়সি ওই নারী ২০২৫ সালের আগস্টে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে কম্বোডিয়া যান। সেখানে কম্পিউটারের কাজ ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হলেও, পরে তার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে একটি স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে আর্থিক জালিয়াতি ও মোবাইল-ইন্টারনেটের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কাজে বাধ্য করা হয়।
একাধিকবার চেষ্টা করেও পালাতে ব্যর্থ হওয়ার পর গত ২০ মে তিনি দালালদের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্ক্যাম সেন্টার থেকে পালিয়ে যান। পরে অজ্ঞাত স্থানে আশ্রয় নিয়ে তিনি হোয়াটসঅ্যাপ কলে সরাসরি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশে ফেরার সহায়তা চান।
বিষয়টি জানার পর মন্ত্রী ব্যাংককে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। দূতাবাস কর্মকর্তারা ভিডিও কলে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর, কম্বোডিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সহায়তায় নমপেন শহর থেকে তাকে উদ্ধার করেন।
বর্তমানে কম্বোডিয়া সরকারের সহযোগিতায় ট্রাভেল পাস ইস্যুর মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন বলে দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরাকে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ মে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইরাকে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তদন্তে দূতাবাস কর্মকর্তারা একটি কোম্পানির কাছে সাত বাংলাদেশি শ্রমিকের পাসপোর্ট জব্দ থাকার সত্যতা পান।
দূতাবাসের হস্তক্ষেপে আজ ওই সাতজন তাদের পাসপোর্ট ফিরে পান। পাসপোর্ট ফিরে পেয়ে তারা ইরাকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং জানান, তারা নিজেরাই কাজের ব্যবস্থা করেছেন।
এদিকে, শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে ইরাক প্রবাসী দুই বাংলাদেশি রিজু মিয়া ও আইলান মিয়ার পরিবারের আবেদনের পর মন্ত্রণালয় ইরাক দূতাবাসকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
অভিযোগে বলা হয়, রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ইরাকে গিয়ে তারা দালালচক্রের খপ্পরে পড়েন এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। তদন্তে দূতাবাস কর্মকর্তারা বাগদাদের আরাসাত আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় তাদের খুঁজে পান। তবে নির্যাতন বা অভুক্ত রাখার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পরে দূতাবাসের সহায়তায় রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে গত ৭ মে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।