বাসস
  ২০ মে ২০২৬, ১৯:৫৪

কম্বোডিয়ায় মানবপাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় মূল সন্দেহভাজন গ্রেফতার

ঢাকা, ২০ মে, ২০২৬ (বাসস) : কম্বোডিয়ায় এক বাংলাদেশিকে নির্যাতন এবং তার পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের একটি মানব পাচার মামলায় প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ মে কুষ্টিয়া শহরের চৌরহাস এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতের নাম মো. ফিরোজ হোসেন (৪৪)।

এতে বলা হয়, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সী ভুক্তভোগী মো. রাজু আহমেদকে ফিরোজ হোসেন এবং আরেক অভিযুক্ত মো. সুমন হোসেন ওরফে কামাল লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় নিয়ে যায়। অভিযুক্তরা রাজুকে কম্বোডিয়ায় পাঠানোর আগে তার কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা আদায় করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কম্বোডিয়ায় পৌঁছার পর রাজুকে আটকে রেখে বৈদ্যুতিক শক, চড় ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে নিগৃহীত করা হয় বলে জানা গেছে। পাচারকারীরা পরে তার মুক্তির জন্য পরিবারের কাছে ৫ হাজার মার্কিন ডলার পণ দাবি করে।

তদন্তকারীরা জানায়, ভুক্তভোগীর পরিবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, রকেট মোবাইল ব্যাংকিং এবং একটি ডুয়াল-কারেন্সি ভিসা কার্ডের মাধ্যমে মোট ৬ লাখ ৯০ হাজার ৩৩০ টাকা পরিশোধ করে।

এত নির্যাতন সত্ত্বেও রাজু বন্দিদশা থেকে পালাতে সক্ষম হন এবং চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরে আসেন। পরে তিনি ১১ মে দৌলতপুর থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬ এবং দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় চক্রের অন্য সদস্যদের যোগসাজশে ফিরোজ ভুক্তভোগীকে কম্বোডিয়ায় পাচার এবং নির্যাতনের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি ১৮ মে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার অধীনে আদালতে একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। 

পিবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাচারকারী সিন্ডিকেটের বাকি পলাতক সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।