শিরোনাম

খুলনা, ১০ মে, ২০২৬, (বাসস) : বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্ব পুরুষের বসতভিটা রূপসার পিঠাভোগকে রবী ঠাকুরের জীবনী চর্চার গবেষণাগার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। গবেষণাগার তৈরি করতে যেসব সরকারি সহযোগিতা ও পরিকল্পনা প্রয়োজন তা অতিসত্ত্বর বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর সাহিত্য কেবল বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অলংকার নয়, বরং মানবিক, অসাম্প্রদায়িকতা, শান্তি ও সৌন্দর্যের এক চিরন্তন দিকনির্দেশনা।
তার সৃষ্টিকর্ম যুগে যুগে বাঙালির মনন, চিন্তা ও চেতনার গভীরে আলো জ্বালিয়ে এসেছে। কবিগুরু তার কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধের মাধ্যমে এমন এক মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, যেখানে মানুষে মানুষে কোনো বিভেদ থাকবে না, ধর্ম, বর্ণ, জাতি কিংবা মতের ভিন্নতা মানুষকে আলাদা করতে পারবে না।
তিনি গতকাল শনিবার জেলার রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আলোচ্য বিষয় ছিল 'রবীন্দ্রনাথ ও অসাম্প্রদায়িকতা'।
তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য আমাদের শিখিয়েছে কিভাবে মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করতে হয়, কিভাবে অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে হয়। তার লেখনীতে যেমন দেশপ্রেমের গভীর আহ্বান রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিশ্বমানবতার এক অসাধারণ বাণী। বাংলা সাহিত্যকে তিনি যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তা শুধু বাঙালি জাতির জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য গৌরবের বিষয়।
আজিজুল বারী হেলাল আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল প্রতীক। তার প্রতিটি সৃষ্টি আজও আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে। নতুন প্রজন্মকে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে পরিচিত করতে হবে। কারণ, রবীন্দ্রচর্চার মধ্য দিয়েই একটি মানবিক, উদার ও সংস্কৃতিমনা সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তার সাহিত্য আমাদের কেবল আনন্দ দেয় না, বরং জীবনের গভীর দর্শন ও মানবতার প্রকৃত শিক্ষা প্রদান করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম। স্মারক বক্তা ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান।
রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতার সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন খুলনা সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অপ্রতীম কুমার চক্রবর্তী, সহকারী কমিশনার মো. জাকারিয়া, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, জেলা বিএনপির সদস্য শেখ আব্দুর রশিদ, উপজেলা আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুর রাজ্জাক মীর, কৃষি কর্মকর্তা তরুন কুমার বালা, মৎস্য কর্মকর্তা জ্যোতি কনা দাস, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এ আনোয়ারুল কুদ্দুস, শিক্ষা কর্মকর্তা মুহা. আবুল কাশেম ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ বজলুর রহমান।