শিরোনাম

ঢাকা, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : দেশব্যাপী অভিযানের অংশ হিসেবে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সারা দেশে সক্রিয় চাঁদাবাজদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে।
আজ শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ কথা জানান।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় ছোটখাটো চাঁদাবাজ থেকে শুরু করে বড় মাপের ব্যক্তি পর্যন্ত সব স্তরের অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর তালিকাভুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের যত দ্রুত সম্ভব আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে র্যাব।’
ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, মহাপরিচালক র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়নকেই তালিকা তৈরির কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এই অভিযানের ফল শিগগিরই দেখা যাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি বিভিন্ন রূপ ও স্তরে হয়ে থাকে এবং র্যাব এই বিষয়ে সব দিক খতিয়ে দেখছে।
রাজধানীর শ্যামলীর একটি কিডনি হাসপাতালে চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি বর্তমানে পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে। র্যাব গোয়েন্দা তথ্য যাচাইও শুরু করেছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত র্যাবের উল্লেখযোগ্য কিছু সফল অভিযানের তথ্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- কক্সবাজারে সন্দেহভাজন দুই মানব পাচারকারীকে গ্রেফতার, খুলনায় অস্ত্রসহ এক শীর্ষ অপরাধীকে আটক এবং চট্টগ্রামে হামলার ঘটনায় এক মামলায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার।
এছাড়াও অভিযানগুলোর মধ্যে ছিল সোনারগাঁওয়ে একজন তালিকাভুক্ত অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীকে আটক এবং পতেঙ্গায় একটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে পাঁচ লাখ ইয়াবা জব্দ করা।
র্যাব কর্মকর্তারা দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, মাদক চোরাচালান এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।