শিরোনাম

টোকিও, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী জাপানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং বিনিয়োগের একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় গন্তব্য।
জাপানের টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে আজ শুক্রবার বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ বিজনেস সেমিনার’-এ প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
দূতাবাস ও জাপান এক্সটারনাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (ইপিএ)—কে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ৭ হাজারেরও বেশি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এই বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তিনি জাপানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়া জাত পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আইটি খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও বিশাল দক্ষ জনশক্তির কথা তিনি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন।
সেমিনারে আলোচকগণ বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের নানা কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা করেন। জেট্রো ঢাকার কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সম্ভাবনার ওপর একটি প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন। সুমিটোমো কর্পোরেশনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক ইউনিটের টিম লিডার শোতা পাকু বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন (বিএসইজেড)-এর আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এছাড়া বাংলাদেশ জাপান ইনফরমেশন টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ইওতো সুজিদে বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতে নিয়োজিত বিশাল দক্ষ জনগোষ্ঠীর ভূয়সী প্রশংসা করে এই বিপুল মেধাসম্পদকে বৈশ্বিক প্রয়োজনে যথার্থভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারের শেষ অংশে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জেট্রো’র প্রতিনিধিরা জাপানি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন- জেট্রো’র সিনিয়র ডিরেক্টর ইউজি আন্দো এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংস্থাটির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আকিকো ওকুমোরা।