শিরোনাম

সাতক্ষীরা, ৬ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস) : জেলার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়ায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ৮টার দিকে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বাঁধের প্রায় ১০০ হাত এলাকা। এতে বড় ধরনের প্লাবনের আশঙ্কায় ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাকবাসিয়া খেয়াঘাটের কাছে পাউবোর এই বাঁধে সম্প্রতি বালির বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলে সংস্কার করা হয়েছিল। গতকাল সকালে নদীর প্রবল স্রোতে স্থানীয় সবুর গাজীর বাড়ির পাশের অংশটি ধসে পড়ে। বর্তমানে ভাঙন এলাকা ছাড়াও বাঁধের উত্তর ও দক্ষিণে আরও দুটি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ভাঙন এলাকা সংলগ্ন উত্তরের ৫০ ফুট ও দক্ষিণের ১০০ ফুটের দুটি অংশে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বছর ঈদুল ফিতরের দিনেও এই বাঁধ ভেঙে আনুলিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। সে সময় ব্যাপক ফসল ও মৎস্য ঘেরের ক্ষয়ক্ষতি হয়। আবারো একই স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় বিপাকে এলাকাবাসী।
এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং এলাকাবাসী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। গতকাল থেকেই ভাঙন কবলিত স্থানে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের কাজ শুরু করেছে পাউবো। দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করার জন্য সহযোগিতা করছে এলাকাবাসী।
পাউবো সাতক্ষীরার বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাজকিয়া বাসসকে বলেন, ইতোমধ্যে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জিও ব্যাগে বালি ভরে বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। বর্তমানে এলাকাটি বিপদ মুক্ত রয়েছে।
তিনি জানান, বেড়িবাঁধ সংস্কারে আরো সাড়ে ৭ হাজার জিও ব্যাগের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁধ সংস্কার সম্পন্ন করা হবে।
খবর পেয়ে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুহুল কুদ্দুছসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। বেড়িবাঁধ রক্ষায় সবাই একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।