বাসস
  ০২ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৩০

হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব রোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ‘হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা কথা বলেন। ছবি: বাসস

ঢাকা, ২ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : দেশে হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ‘হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এসব কথা বলেন।

নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের উদ্যোগে আয়োজিত এ বৈঠকে দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গণমাধ্যমকর্মী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী এবং বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক রুবীনা ইয়াসমিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমিম, শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. হানিফ, ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম, দৈনিক বাংলা ভিশনের প্রধান সম্পাদক আব্দুল হাই সিদ্দিক, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও সাহিত্যিক আনিসুল হক, গবেষক ও রাজনীতিবিদ ডা. তাসনিম জারা, বিএমইউর শিশু রোগ বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ইয়ামিন শাহরিয়ার চৌধুরী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. তৌহিদ ইসলাম, বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা উন্নয়ন এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা হামের প্রাদুর্ভাব নতুন কোনো ভাইরাস মিউটেশনের ফল কিনা তা নির্ণয়ে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যম ব্যবহার করে কীভাবে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সভা শেষে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ও সুপারিশসমূহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারের কাছে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকের অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের সময়োপযোগী আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও দেশের স্বাস্থ্যখাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।