বাসস
  ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৮:৪৫

রামেক হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। ফাইল ছবি

রাজশাহী, ৩১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) সেবার অপেক্ষায় থাকা শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

আজ বিকেলে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেন।

সচিব বলেন, রাজশাহীতে আমাদের শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। কোনো মৃত্যুই কারো কাম্য নয়। এসব ক্ষতির জন্য আমরা দুঃখিত। এখানে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল।

রামেক হাসপাতালে শিশুদের জন্য মাত্র ১২টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। নতুন ভর্তি হওয়া শিশুদের শয্যা খালি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। আইসিইউতে থাকা কোনো শিশু মারা গেলে বা কিছুটা সুস্থ হলে অপেক্ষমাণ তালিকার পরবর্তী শিশুকে ডাকা হয়।

সিরিয়াল পদ্ধতি থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় আইসিইউতে ভর্তির ডাক পেতে ৩০ থেকে ৫০ জন শিশুর পালা অতিক্রম করতে হয়। এর মধ্যে সাধারণ রোগের পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় আইসিইউ সেবার চাহিদা আরও বেড়েছে। ফলে, পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে।

স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস (পি সি বিশ্বাস) হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন।

সকালে তারা হাসপাতালের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। 

পরে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও আইসিইউ পরিদর্শন করেন এবং শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

সচিব জানান, ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তারা সাতটি ভেন্টিলেটর নিয়ে এসেছেন।

এটা পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

এছাড়া, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত নয়, এমন শিশুদের আইসিইউ সেবার প্রয়োজন হলে রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে আইসিইউ সুবিধাও রয়েছে।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আরও জানান, রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং আজ তিনি নিজে এসব হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন।

তিনি বলেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল আংশিকভাবে চালু করা হবে।’

প্রথমে বহির্বিভাগে সেবা শুরু হবে এবং পরবর্তী অর্থবছরে অন্যান্য সেবা চালু করা হবে বলে জানান তিনি।

অতীতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘটের কারণে শিশুরা হাম টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলেও সচিব উল্লেখ করেন।

মায়েরা হয়তো সন্তানদের টিকা দিতে গিয়েছিলেন, কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মী না পাওয়ায় টিকাদান সম্ভব হয়নি, যা হাম রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণ হতে পারে।

তিনি জানান, টিকা কেনার জন্য ক্রয় কমিটি ইতোমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে এবং অর্থ ছাড় করা হয়েছে। খুব শিগগিরই হামসহ শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।