বাসস
  ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭:২৬

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলাবদ্ধতায় ৬০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ ও পানি কমিটি। ছবি: বাসস

খুলনা, ৩১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : খুলনা-যশোর-সাতক্ষীরা অঞ্চলের প্রায় ৬০ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিগত ৩৫-৪০ বছর ধরে এই জলাবদ্ধতা আরো মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সমস্যাটি ক্রমশ তীব্র হচ্ছে এবং এর পরিধি আরো ব্যাপক এলাকায় বিস্তৃত হচ্ছে। 

জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় এ অঞ্চলের নদ-নদী খনন ও জোয়ার-ভাটা (টিআরএম) পদ্ধতি চালু করার দাবি জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ ও পানি কমিটি।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় জনগণের পক্ষে বলা হয়, দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এর নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অববাহিকাসমূহে দ্রুত টিআরএম বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ, টিআরএম বিলের অধিবাসীরা যাতে সহজে ক্ষতিপূরণ পায়, তার ব্যবস্থা করা এবং সকল কর্মকাণ্ডে জনগণ ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। 

লিখিত বক্তব্যে সাবেক অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি আব্দুল মতলেব সরদার বলেন, জলাবদ্ধতার মূল কারণ পলি দ্বারা নদী ভরাট হয়ে যাওয়া। 

তিনি আরও বলেন, জোয়ারে আগত গলি প্লাবনভূমি বা বিলে অবক্ষেপিত হতে না পেরে তা নদীবক্ষে অবক্ষেপিত হয়ে নদীর বুক প্লাবন ভূমি থেকে উঁচু হয়ে যায়। যার ফলে বর্ষা মৌসুমের পানি পোল্ডারের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। 

আব্দুল মতলেব সরদার বলেন, বছরে ৬ থেকে ৯ মাস, এমনকি কোনো কোনো বিল সারা বৎসর জলমগ্ন থাকে। এর ফলে দেখা দেয় নীচু বসতি এলাকায় বসবাস সংকট, ধান ও মাছ চাষে ব্যাপক বিপর্যয় এবং কর্মসংস্থানের সংকট। 

তিনি আরও বলেন, পলি সমস্যার কারণে উপকূলীয় নদীগুলো ক্রমশ মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। যশোর অঞ্চলের টেকা-মুক্তেশ্বরী, আপারভদ্রা, বুড়িভদ্রা ও হরিহর, শিবসা ও কড়ুলিয়া নদী এবং সাতক্ষীরা জেলার কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ, সাপমারা, লাবণ্যবতী, গলঘেষিয়া ও খোলপেটুয়া প্রভৃতি নদীগুলোতে বর্ধিত হারে পলি জমে নদীগুলো দ্রুত মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। 

তিনি জানান, সুন্দরবনের বনভূমি ও নদী খালগুলোতে ব্যাপকহারে পলি জমে পরিবেশের ব্যাপক বিপর্যয় ঘটাচ্ছে। অপরদিকে ব-দ্বীপ ভূমি ক্রমশ বসে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ সমস্যা তীব্র হচ্ছে। 

এছাড়া, পোল্ডার ব্যবস্থার কারণে এলাকার ভূ-গঠন প্রক্রিয়া তথা ব-দ্বীপের ভূমি গঠন কাজ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন— হাশেম আলী ফকির, মো. রেজাউল করিম, সেলিম আক্তার স্বপন, জিল্লুর রহমান সম্পাদক ও শেখ মোশারফ হোসেন প্রমুখ।