শিরোনাম

নেত্রকোণা, ২৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর অবশেষে সুস্থ হয়ে নতুন জীবন শুরু করলেন নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের কৃষ্ণ হাজং।
সফল কিডনি প্রতিস্থাপনের পর সুস্থ হয়ে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) থেকে আজ ছাড়পত্র পেয়ে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
তার এই ফিরে আসা শুধু একটি পরিবারের জন্য স্বস্তির খবর নয়, বরং মাতৃত্বের মমতা ও মানবিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। পারিবারিক সূত্র জানায়, কৃষ্ণ হাজং ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
হঠাৎ তার দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়লে পরিবারটি চরম সংকটে পড়ে। ময়মনসিংহ ও ঢাকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে গচ্ছিত টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় অর্থাভাবে গত বছরের মে মাসে প্রায় বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফেরেন কৃষ্ণ।
এই সংকটকালে তার পাশে দাঁড়ান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। নেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ওই সময় তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং তার ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে গত ১৮ জুন থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) পুনরায় চিকিৎসা ও ডায়ালাইসিস শুরু হয়।
চিকিৎসকরা জানান, কৃষ্ণকে বাঁচাতে কিডনি প্রতিস্থাপন অপরিহার্য। এই অবস্থায় কৃষ্ণের মা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি কিডনি ছেলেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ আট মাস বিএমইউ-তে ডায়ালাইসিস ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ২ মার্চ সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। পুরো চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় ডেপুটি স্পিকার বিনয়ের সঙ্গে তাদের বিদায় জানান এবং সুস্থ জীবনের জন্য শুভ কামনা জানান।
দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমি কৃষ্ণ হাজংয়ের পাশে দাঁড়িয়েছি। আল্লাহর রহমতে বিএমইউ-তে সবকিছু সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
কৃষ্ণ যেন সুস্থ থেকে আবার তার পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্য আমি সকলের দোয়া চাই।’
কৃষ্ণের চিকিৎসার জন্য তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।