শিরোনাম

//বাবুল আখতার রানা//
নওগাঁ, ২৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ঈদের ছুটিতে জেলার বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থানে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিলো। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও নারী-পুরুষদের বেশ উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর কিছুটা স্বস্তি পেতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোতে।
বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল, বদলগাছীর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও হলুদ বিহার, ধামইরহাটের জাতীয় উদ্যান আলতাদিঘী ও শালবন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত আত্রাইয়ে পতিসর কাছারি বাড়ী, রানীনগরের রক্তদহ বিলের পাখিপল্লী, মান্দার ঐতিহাসিক কুশুম্বা মসজিদ, পত্নীতলার দিবর দিঘী, সাপাহারের জবই বিল ও নিয়ামতপুরের ছাতড়া বিল।
নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে অনেকেই পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে ছুটে আসেন ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে। ঈদের দিন থেকে বিভিন্ন জেলার নানা বয়সী মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। সাধারণত বছরের অন্যান্য সময় এখানে যত পর্যটক আসেন, ঈদের ছুটিতে কয়েকগুন বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটে।
জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান মান্দার ঐতিহাসিক কুশুম্বা মসজিদে বিভিন্ন বয়সী মানুষের ব্যাপক ভীড় দেখা গেছে। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের উপস্থিতি ছিল অন্য সময়ের তুলনায় বেশি। ভ্রমণপিপাসুরা বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রাচীন এই মসজিদটি ঘুরে দেখেন।
এছাড়া নওগাঁ সদরে হাঁসাইগাড়ী বিল, শহরে অবস্থিত জেলা পরিষদ পার্ক, আব্দুল জলিল শিশু পার্ক, দিঘলীর বিল, ডানা পার্ক, হৈ-চৈ পার্ক, দুবলহাটি রাজবাড়ি ও বলিহার রাজবাড়ি সহ আরো কিছু দর্শনীয় স্থান। শিশু-কিশোররা মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন মিলে ঘুরে ঈদ আনন্দ উপভোগ করেন। এসব দর্শনীয় স্থানে পার্শ্ববর্তী জেলা জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসেন।
জয়পুরহাট থেকে আসা দর্শনার্থী বিলকিস বেগম বলেন, পাশের জেলায় পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার। কর্মজীবনে চাইলেও সবসময় আসা সম্ভব হয়না। যান্ত্রিক জীবনের যাঁতাকল থেকে বেরিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশের একটু প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছি। ছুটি শেষে আবারও ইটপাথরের শহর ঢাকায় ফিরে যেতে হবে।
বগুড়া শহরে থেকে পরিবার নিয়ে পাখি পল্লীতে আসা দর্শনার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, পাখি পল্লীর ঝুলন্ত সেতুর কথা গণমাধ্যম ও স্যোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি।
তারপর ঝুলন্ত সেতু দেখার লোভ সামলাতে না পেরে ঈদে পুরো পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা। বাস্তবে ঝুলন্ত সেতু অনেক সুন্দর ও আকর্ষণীয়। এছাড়া পাখি পল্লীর প্রাকৃতিক পরিবেশ সত্যিই অনেক মনোরম। পাখি পল্লীর সুন্দর পরিবেশ খুবই ভালো লেগেছে।
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজু বলেন, ঈদের তিনদিনে (২১-২৩ মার্চ) পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে ৪৩ হাজার ৯৩৫ জন দর্শনার্থী ঘুরতে এসেছে।
যা থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮৭০ টাকা। এরমধ্যে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিনামুল্যে ভ্রমনের সুযোগ পেয়েছে। সাধারণত বছরের অন্যান্য সময় এখানে যত পর্যটক আসেন, ঈদের ছুটিতে কয়েকগুন বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটে। ঈদের ছুটি শেষে এখন দর্শনার্থী কমতে শুরু করবে।