শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস ও তার স্ত্রী কৃষ্ণা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ দুদক-এর প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুদক-এর সহকারী পরিচালক মো. রুহুল হক বাদী হয়ে এ মামলা দুটি দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করে দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর সিআইডিতে কর্মরত ছিলেন তিনি।
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ থেকে পিআরএল-এ যান তিনি।
দুদক-এর অনুসন্ধানে উত্তম কুমার বিশ্বাসের নিজের নামে ১৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা এবং ছেলে-মেয়ের নামে ২ কোটি ৮১ লাখ ৩৮ হাজার ২২৫ টাকাসহ মোট ৩ কোটি ১ লাখ ৩৪ হাজার ২২৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া তার নিজ নামে ১৪টি, ছেলে উচ্ছ্বাস বিশ্বাসের নামে ৮টি ও মেয়ে উর্মি বিশ্বাসের নামে ১২টিসহ মোট ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৪৩ কোটি ৭৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৯৬ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এ সব অর্থ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন বিনিয়োগ ও সম্পদ ক্রয়ের আড়ালে স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে।
দুদক-এর দাবি, সম্পদ বিবরণীতে ছেলে-মেয়ের নামে অর্জিত সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হয়েছে।
এ মামলার অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২), ২৭(১) ধারা; মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২), ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলায়, আসামি কৃষ্ণা বিশ্বাস তার স্বামীর ক্ষমতার অপব্যবহার জনিত প্রভাব ও আর্থিক সহায়তায় ৫ কোটি ৯১ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭০ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
তার নামে ৭৫টি ব্যাংক হিসাবে ২৯ কোটি ১৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৯১ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, দুদক-এর প্রাথমিক নোটিশ পাওয়ার পর, তিনি নিজ নামে থাকা দুইটি ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন সম্পদ বিক্রি করে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অর্থের প্রকৃত উৎস গোপনের চেষ্টা করেন।
এ মামলায় কৃষ্ণা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা; মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২), ৪(৩) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।