বাসস
  ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:১৪

জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালনে ছাত্রশিবিরকে প্রস্তুতি নিতে হবে : জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারস্থ আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ-২০২৬ এর দিনব্যাপী প্রথম সাধারণ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: বাসস

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আগামী দিনের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের জন্য ছাত্র শিবিরের জনশক্তিকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। তৃণমূল থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে বৃহত্তর পরিসরে নেতৃত্ব প্রদানের যোগ্যতা অর্জনে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারস্থ আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ-২০২৬ এর দিনব্যাপী প্রথম সাধারণ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। 

কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সকালে পবিত্র দারসুল কুরআনের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়। 

দারসুল কুরআন পেশ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

অধিবেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শহীদ মো. রেজবুল হক (প্লাবন)-এর পিতা মো. আজাদুল ইসলাম ও উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।

সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (এমপি), ড. রেজাউল করিম এবং জাহিদুল ইসলাম।
জামায়াত আমির বলেন, ‘বিজয়ের ধারাবাহিকতায় নৈতিকতার ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। ছাত্রশিবিরের দৃশ্যমান শক্তি ও মর্যাদা জায়গা হলো নৈতিকতা। সুতরাং নৈতিকতার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় বা আপস গ্রহণযোগ্য নয়।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নামাজ হলো নৈতিকতার ভিত্তি। কোনো অজুহাতেই নামাজের ব্যাপারে শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়। যুবক বয়স থেকেই যারা গোপন ও প্রকাশ্য নফল ইবাদতে অভ্যস্ত হন, আমৃত্যু তার ব্যবহারিক জীবনে এর প্রভাব থেকে যায়। মানুষের নৈতিক সৌন্দর্য যখন অন্যদেরকে আকৃষ্ট করে, তখন পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাদের বিজয়কে রোধ করতে পারবে না।’

উদ্বোধনী বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ছাত্রশিবির থেকে শুরু করে যুগে যুগে ইসলামী আন্দোলনের কাজ করতে গিয়ে যারা শাহাদাত বরণ করেছেন তাদের স্মরণ করে বলেন, ‘কার্যকরী পরিষদ সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের সংগঠনের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক কাঠামো। এই পরিষদের সদস্য হিসেবে প্রত্যেককে সর্বপ্রথম নিজেদের আত্মতত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় সভাপতিকে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে হবে। সংগঠনের সর্বস্তরে ইসলামী নীতির যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করা, সংবিধানের আলোকে কর্মসূচি বাস্তবায়নের তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণ করা এবং সংগঠনের যেকোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করে তা দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করা কার্যকরী পরিষদের অন্যতম দায়িত্ব।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো পদ্ধতিতে এবং সাহাবায়ে কেরামের আন্তরিকতা, আনুগত্য ও দায়িত্ববোধের অনুভূতি ও মানসিকতা ধারণ করে কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টিকে একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে নিষ্ঠা, তাকওয়া ও জবাবদিহিতার চেতনায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

দিনব্যাপী এ অধিবেশনে কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা ও শপথ গ্রহণ, বার্ষিক পরিকল্পনা ২০২৬ প্রস্তাবনা পেশ, পর্যালোচনা ও অনুমোদন, সেক্রেটারিয়েট গঠন এবং অঞ্চল পরিচালক নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়াও বিদায়ী কার্যকরী পরিষদ সদস্য ভাইদের বক্তব্য, মেহমানের বক্তব্য, ইহতেসাব, কেন্দ্রীয় সভাপতির সমাপনী বক্তব্য, দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অধিবেশন সমাপ্ত হয়।

ছাত্রশিবির-এর ২০২৬ সালের নবনির্বাচিত সেক্রেটারিয়েট হলো কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মিডিয়া সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, প্রচার সম্পাদক ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মহিবুর রহমান মুহিব এবং সমাজসেবা সম্পাদক রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ নির্বাচিত হয়েছেন।