বাসস
  ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৫১

সৌদি আরবের রিয়াদে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

ছবি : বাসস

ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। 

দিবসটি উপলক্ষে আজ দূতাবাস চত্বরে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন। পরে রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 

এ সময় রিয়াদে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকেও শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

আজ শনিবার এক তথ্যবিবরণীতে এ কথা জানানো হয়। 

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালনের অংশ হিসেবে দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভার শুরুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পাঠানো বাণী পাঠ করা হয়। 

আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন রিয়াদে অবস্থিত অভিবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটির হামিদুল হক শামীম, মো. তাজুল ইসলাম গাজী এবং ডা. এ  কে এম গোলাম হাসনাইন সোহান। 

অনুষ্ঠানে দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিবেচনা করে রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সকল ভাষা শহীদকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বকীয়তাবোধ ও জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে, যার ফলে আমরা নিজ অধিকার সম্পর্কে সচেতন হই। 

তিনি বলেন, পরবর্তীতে নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। 

রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, ইতিহাস থেকে প্রমাণিত বাংলাদেশের মানুষ যখন কোনো ন্যায়সংগত বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করে, তখন অবশ্যম্ভাবীভাবেই সাফল্য অর্জিত হয়। 

এসময় রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে সৌদি আরবের প্রাসঙ্গিক বাস্তবতা তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশের মানুষ সৌদি আরবের মানুষের সঙ্গে কাজ করতে করতে তাদের অন্দরমহল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। 

প্রবাসে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা ও সততার সঙ্গে নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে দেশকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। 

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ নামটি একটি দক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য জনগোষ্ঠীর দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবে এবং ফলশ্রুতিতে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির আরো প্রসার ও সমৃদ্ধি ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অদম্য চেতনাকে ধারণ করে প্রবাসীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।