বাসস
  ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:০৪

ইবাদতের গুঞ্জনে মুখরিত উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ ‘জামিল মাদরাাসা জামে মসজিদ’

ছবি : বাসস

\ নাসির আহমেদ \

বগুড়া ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বগুড়া শহরের উপকণ্ঠে ৪০ বিঘার বিশাল আয়তনের ওপর অবস্থিত উপমহাদেশের অন্যতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম জামিল মাদরাাসা। এই মাদ্রাসার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মসজিদটি বর্তমানে উত্তরবঙ্গের মধ্যে আয়তনে সর্ববৃহৎ এবং অন্যতম প্রাচীন মসজিদ হিসেবে স্বীকৃত।

এই প্রতিষ্ঠান মূলত জামিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুফতি সুহাইল উদ্দিনের উদ্যোগে গড়ে ওঠে। দারুল উলুম দেওবন্দের ছাত্র মুফতি সুহাইল উদ্দিনের আগ্রহে (১৩৮০হিজরী) ১৯৬০ সালের ৪ জানুয়ারি আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার মহাপরিচালক আজিজুল হক (রহ.) এবং হাজি ইউনুস সাহেবসহ (রহ.) কয়েক বুজুর্গ এর ভিত্তি স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠালগ্নে শিক্ষা কার্যক্রমের দেখভালের জন্য ফকিহুল মিল্লাত মুফতি আবদুর রহমানকে (রহ.) দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বর্তমান মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাঁর মুফতি আরশাদ রহমানি সাহেব।
স্থাপত্য ও ধারণক্ষমতা: মসজিদটির বিশালতা মুগ্ধ করার মতো। দীর্ঘ ৬৭ বছরের ইতিহাসে তিন ধাপে মসজিদটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বিশাল কাতার: মসজিদের প্রতিটি তলায় ৩৩টি করে কাতার রয়েছে।

ধারণক্ষমতা: একক তলায় প্রায় ৩ হাজার মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন। পুরো মসজিদ কমপ্লেক্সে একত্রে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে।

পরিবেশ: মাদরাসার আবাসিক ৩ হাজার ছাত্র এবং শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর পদচারণায় মসজিদটি সর্বদা প্রাণবন্ত থাকে।

২৪ ঘণ্টা ইবাদতের অনন্য কেন্দ্র: সাধারণত অনেক মসজিদ নামাজের পর বন্ধ করে দেওয়া হলেও, জামিল মাদ্রাসার এই মসজিদটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা আবাদ থাকে । মসজিদের সহকারী পরিচালক মুফতি আতাউল্লাহ নিজাম বাসসকে জানান, রাত দু’টা বা তিনটায় আসলেও এখানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং আল্লাহর দরবারে শিক্ষার্থীদের রোনাজারির শব্দ শোনা যায়’।

ধর্মপ্রাণ মানুষের মিলনমেলা:প্রতি জুম্মাবার এবং দুই ঈদে এখানে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ নামাজ আদায়ের জন্য সমবেত হন । সরকারি কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস না থাকলেও স্থানীয় ও প্রবাসী মুসলিম ভাইদের দান এবং ভালোবাসায় এই বিশাল দ্বীনি মারকাজটি পরিচালিত হয়ে আসছে ।

ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি কেবল ইবাদতের স্থানই নয়, বরং উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে এক আধ্যাত্মিক প্রশান্তির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।