শিরোনাম

-আবু নাঈম-
পঞ্চগড়, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর পঞ্চগড়-১ আসন পুনরুদ্ধার করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একসময় দলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে জয়ী হয়ে ‘বাবার হারানো আসন’ ফিরিয়ে আনলেন ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির।
পঞ্চগড় সদর, আটোয়ারী ও তেঁতুলিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ভোটে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির শাপলা প্রতীকের প্রার্থী সারজিস আলমকে পরাজিত করেন।
নওশাদ জমির বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক। রয়েছেন মন্ত্রী হবার আলোচনাতেও। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের পুত্র।
নির্বাচনে তার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। ১১ দলের জোটের মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলো তার পক্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালায়। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে জয় পায় বিএনপি।
এই আসনে ১৯৯১ সালে বিএনপির হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ। পরে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে টানা দুইবার এখানে এমপি হন সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি হাতছাড়া হয় বিএনপির। এরপর দীর্ঘ সময় আসনটি কুক্ষিগত করে রাখে আওয়ামী লীগ। অবশেষে সেই হারানো আসন পুনরুদ্ধার করলেন তারই পুত্র।
ছাত্রদল নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপির ঐতিহ্য ছিল, আছে এবং থাকবে। নওশাদ জমিরের নেতৃত্বে আমরা উন্নয়নের রাজনীতি এগিয়ে নেব।
যুবদল কর্মী মামুন খাঁন বলেন, নওশাদ জমির শিক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থী। আমরা তার পক্ষে কাজ করেছি। ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারণা চালিয়েছি। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধানের শীষে ভোট দিয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ১৫৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। গণনা শেষে ওইদিন রাতেই ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান।
প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, নওশাদ জমির ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীকে ভোট পান ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান ছিল ৮ হাজার ১২০টি।
জয়ী হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির বলেন, দলমত নির্বিশেষে আমরা আমাদের জেলার জন্য সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। আমাদের এই চেষ্টাটা অব্যাহত থাকবে। আমাদের মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে মতপার্থক্যের ব্যাপারেও আমরা একমত হব।