বাসস
  ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৯

পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের ঢল

মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, বিশ্বরোড, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, দাউদকান্দি ও চৌদ্দগ্রাম অংশে ঘরমুখো মানুষের ভিড় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ছবি : বাসস

\ দেলোয়ার হোসাইন আকাইদ \

কুমিল্লা, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি। অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহু প্রতীক্ষার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোটাধিকার প্রয়োগের তাগিদে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে গ্রামে ফিরছে হাজারো মানুষ। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশজুড়ে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। বাস টার্মিনাল ও সড়কে দেখা যাচ্ছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।
গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর থেকেই কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, বিশ্বরোড, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, দাউদকান্দি ও চৌদ্দগ্রাম অংশে ঘরমুখো মানুষের ভিড় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রীদের বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রায় প্রতিটি বাসেই ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করা হচ্ছে।

বাস টার্মিনালগুলোতে আগাম টিকিটের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, কুমিল্লাগামী ও কুমিল্লা হয়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীগামী অধিকাংশ বাসের টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। আজ ভিড় আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকায় অপেক্ষমাণ যাত্রী আব্দুল মালেক বাসসকে বলেন, দীর্ঘদিন পর নিজের ভোট নিজে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। একটু কষ্ট হলেও পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। এই কষ্টটুকু আনন্দেরই অংশ।

অপেক্ষমাণ আরেক যাত্রী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাশেদ মাহমুদ। তিনি বাসসকে বলেন, দুই দিনের বাড়তি ছুটি নিয়েছি শুধু ভোট দেওয়ার জন্য। ঈদের সময় যেমন : গ্রামে যাই, এখনও তেমন একটা অনুভূতি হচ্ছে।

শুধু বাস নয়, সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কুমিল্লা থেকে চাঁদপুর, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরগামী আঞ্চলিক সড়কগুলোতেও যানবাহনের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। ফলে কিছু কিছু এলাকায় ধীরগতিতে যান চলাচল করছে।

বাসচালক নজরুল ইসলাম জানান, যাত্রী অনেক বেশি। সকাল থেকেই একটানা ট্রিপ দিতে হচ্ছে। সবাই ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি যাচ্ছে। এমন চাপ সাধারণত ঈদের সময় দেখা যায়।

চালক সোহেল রানা বলেন, যাত্রীদের মধ্যে একটা আলাদা উত্তেজনা আছে। সবাই কথা বলছে ভোট নিয়ে, নিজের পছন্দের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার কথা বলছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচনের প্রত্যাশায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামে ফিরছেন, যেন ভোটের দিন সবাই একসঙ্গে ভোট দিতে পারেন।

এদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুমিল্লার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের মহাসড়কে টহল দিতে দেখা গেছে। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদেরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে এই ঘরমুখো মানুষের স্রোত প্রমাণ করছে, সাধারণ মানুষ এবারের নির্বাচনকে তাদের ভবিষ্যৎ ও ভাগ্য পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।