বাসস
  ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪১

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে ইসলামী আন্দোলন : চরমোনাই পীর

ছবি : বাসস

ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর, চরমোনাই বলেছেন, পাঁচ আগস্টের পর যখন অনেকেই দখলদারিতে মত্ত ছিল, তখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সারাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

আজ শুক্রবার সকালে বরগুনার আমতলী পৌর মুক্ত মঞ্চে বরগুনা-১ আসনের হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘অনেকে দেশবাসীকে সোনার বাংলা, সবুজ বাংলা কিংবা ডিজিটাল বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছে। আমরা সে ধরনের স্লোগান না দিলেও দেশের আঠারো কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারবো ইনশাআল্লাহ।’ তিনি ভোটারদের হাতপাখা প্রতীকে আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, বরগুনা জেলায় দুটি সংসদীয় আসন রয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের বিজয়ের ব্যাপারে তারা দৃঢ় আশাবাদী। বিভিন্ন দলের কর্মী-সমর্থক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গে কথা বলে তিনি এই আশাবাদ পেয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে হাতপাখার বিজয়ধ্বনি বঙ্গোপসাগরের তীর থেকেই শুরু হবে।

হাতপাখার কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যেভাবে সময় ও শ্রম দিয়ে মাঠে কাজ করছেন, আল্লাহ আপনাদের বিজয় দান করবেন ইনশাআল্লাহ।

অন্যান্য প্রার্থীদের উদ্দেশে চরমোনাই’র পীর বলেন, ‘কেউ যেন ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা না করে এবং সন্ত্রাসী পথে না হাঁটে। আমাদের কর্মীদের শান্ত স্বভাব দেখে ভুল করবেন না, আমাদের কাজে কেউ বাধা দিলে তার পরিণতি ভালো হবে না।’

হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্মালম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চরমোনাই এলাকায় সংখ্যালঘুরা মায়ের কোলের মতো নিরাপদ।

সভাপতির বক্তব্যে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন ওয়ালীউল্লাহ বলেন, তিনি শাসক হতে নয়, জনগণের খাদেম হতে চান। প্রতিহিংসার রাজনীতির বদলে সুস্থ রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা, মামলাবাজির অবসান, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি রোধ এবং শিক্ষাবান্ধব ও কর্মসংস্থানবান্ধব উন্নত বরগুনা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি।

তিনি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, বরগুনা সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা, সদরসহ তালতলী ও আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বন্যা ও নদীভাঙন রোধে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ, বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান কাসেমী, কেন্দ্রীয় নির্বাচন মনিটরিং টিমের সদস্য মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ, জেলা উপদেষ্টা মাওলানা ওমর ফারুক জিহাদী, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস শাকুরসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।