শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।
মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন তার বাবা ও মামলার বাদী জামাল উদ্দিন। তিনি (আলিফের বাবা) ছেলে হত্যার ন্যায় বিচার দাবি করেছেন। তার সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমেই বিচারিক প্রক্রিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হলো।
আজ সোমবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। দুপুরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হকের আদালতে বাদীর সাক্ষ্য শেষ হয়।
এরপর এক আসামি অজয় দাশের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত একজন আইনজীবী বাদীকে জেরা করেন।
শুনানির শুরুতে কারাগারে থাকা অন্যতম আলোচিত আসামি চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ছাড়া সকল আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত করা হয়। আদালতের এজলাসে স্থাপিত এলইডি মনিটর ও অডিও সিস্টেমের মাধ্যমে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
বাদির জবানবন্দি শেষে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী তাকে জেরা করার জন্য আদালতের কাছে সময়ের আবেদন জানান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সারা দেশের মানুষ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দেখার অপেক্ষায় আছে। আজ বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের পিপি এস ইউ এম নুরুল ইসলাম বলেন, আদালতে বাদী সাক্ষ্য দিয়েছেন। বাদীর আংশিক জেরাও হয়েছে। তিনি ভিকটিম। আদালতে তিনি তার ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেছেন।
বাদী জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচার চাই। আসামিপক্ষ সময় ক্ষেপণের চেষ্টা করছে। সরকারের কাছে আবেদন যেন দ্রুত বিচার হয়।’
গত ১৯ জানুয়ারি সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে এ মামলায় বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এসময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে আদালতের আশপাশ এলাকায়। এ সময় খলিফা পট্টি এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
পরে ২৯ নভেম্বর নিহত আইনজীবী সাইফুলের বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। একই দিন আলিফের ভাই বাদী হয়ে ভাঙ্চুর ও বিস্ফোরক আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
এর আগে পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা-ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও চারটি মামলা হয়। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেছে।