শিরোনাম

ঢাকা, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সফল রাষ্ট্রনায়ক বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও বৈশ্বিক প্রভাবের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মরণসভার আয়োজন করেছে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
রাজধানী মালের ‘মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’ (এমএনইউ) অডিটোরিয়ামে গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক স্মরণসভায় মালদ্বীপ সরকারের উচ্চপদস্থ মন্ত্রী, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনার-রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা অংশ নেন।
মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাই কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ শনিবার এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বেগম জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘ইন মেমোরিয়াম : বেগম খালেদা জিয়া, মালদ্বীপে কূটনৈতিক সম্প্রদায় ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের শোকবার্তা’ শীর্ষক একটি বিশেষ স্মারক গ্রন্থ ও প্রামাণ্যচিত্রের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এই সংকলনে মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ দেশটির বর্তমান ও সাবেক রাজনীতিকদের পাঠানো শোকবার্তা স্থান পেয়েছে।
হাইকমিশন আরও জানিয়েছে, বেগম জিয়ার প্রয়াণে বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপ সরকারের প্রতিনিধি, মালদ্বীপে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সদস্যগণ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। তারা প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জীবন, নেতৃত্ব ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
আন্তর্জাতিক এই স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর নেতৃত্বের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় নারী নেতৃত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন। এই স্মরণানুষ্ঠান ও স্মারক প্রকাশনাটি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি বেগম জিয়ার অবদান স্মরণে এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা ও শ্রম মন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া কেবল বাংলাদেশের নেতা ছিলেন না, তিনি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক অনুপ্রেরণামূলক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত করতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।’
বিশেষ আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ তার বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আপসহীন নেতৃত্বের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম জিয়ার বৈপ্লবিক পদক্ষেপগুলো তাঁকে ইতিহাসের পাতায় অমর করে রাখবে।’
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপে যুক্তরাজ্যের হাই কমিশনার নিক ডি. লো, ভারতের হাই কমিশনার শ্রী জি বালাসুব্রামানিয়ান, পাকিস্তানের হাই কমিশনার ভাইস অ্যাডমিরাল (অব.) ফয়সাল রাসুল লোধি বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
মালদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স চুননং স্যাগার, জাতিসংঘের আবাসিক কো-অর্ডিনেটর হাও ঝাং, শ্রীলঙ্কান হাই কমিশনের কাউন্সেলর থিমুথু দিসানায়াকা, ইউনিসেফের প্রতিনিধি ড. এডওয়ার্ড আদ্দাই, রাশিয়ার কনসাল জেনারেল মি. আলেক্সেই এম. ইদামকিন এবং মালদ্বীপের সাবেক পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী জেফ্রি সালিম ওয়াহিদ, চীন দূতাবাসের কূটনীতিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
স্মৃতি সংরক্ষণ ও প্রামাণ্যচিত্র :
বাংলাদেশ হাই কমিশনার ড. মো. নজমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বেগম জিয়ার জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। পাশাপাশি একই শিরোনামে প্রণীত সংরক্ষিত স্মারক ম্যাগাজিন অতিথিদের মাঝে উন্মোচন ও বিতরণ করা হয়।
হাই কমিশনার তার বক্তব্যে বাংলাদেশের তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াণে প্রাপ্ত শোকবার্তাগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে আর্কাইভ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্ক: বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন’ শীর্ষক আরেকটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন কালে উপস্থিত কয়েক শ’ প্রবাসী বাংলাদেশির মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
হাই কমিশনের কাউন্সিলর (শ্রম) মো. সোহেল পারভেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর ড. মাহামুদ শুগি এবং ভাইস চ্যান্সেলর ড. আয়েশাথ শেহেনাজ আদমসজ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা এতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন খলিলুর রহমান, আহমেদ মুত্তাকি ও সাজ্জাদ।