শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ব্যাংকিং খাতে আর্থিক আত্মসাৎ, সরকারি ক্রয়ে অনিয়ম এবং স্বাস্থ্যসেবায় হয়রানির অভিযোগে দেশের তিনটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ রাতে দুদকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোনালী ব্যাংক পিএলসি’র গোপালপুর শাখা, টাঙ্গাইল-এর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতারক চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে একজন গ্রাহকের ই-ওয়ালেটের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক, জেলা কার্যালয় টাঙ্গাইল থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে টিম সরেজমিনে ই-ওয়ালেট কার্যক্রম পরিদর্শন করে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে। প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, উক্ত শাখার একজন গ্রাহকের প্রায় ৩৩ লাখ টাকা একটি প্রতারক চক্রের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা গ্রাহককে যথাযথভাবে সনাক্ত না করেই ই-ওয়ালেট অনুমোদন করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি আরও গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করে বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হবে বলে জানায় দুদক।
এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে প্রায় ২১ কোটি টাকার মেডিসিন ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে আরেকটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এডিপি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত দরপত্রগুলোতে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওসি) প্রদান করা হলেও পরবর্তীতে ঘাটতির অজুহাতে রি-টেন্ডার আহ্বান করা হয়। অভিযানে সংগৃহীত রেকর্ডপত্রের প্রাথমিক যাচাইয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে কিনা, তা যাচাই করে বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেয়া হবে।
অপরদিকে, কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি ও নানা অনিয়মের অভিযোগে দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয় কক্সবাজার থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে টিম সরেজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন। একই সঙ্গে ওয়ার্ডে সরবরাহকৃত খাবারের মান পরীক্ষা করা হয় এবং রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত বিনামূল্যের সরকারি ওষুধ সঠিকভাবে বিতরণ হচ্ছে কিনা তা যাচাই করা হয়। অভিযানে সংগৃহীত তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়েও কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
দুদক জানিয়েছে, প্রতিটি অভিযানের ক্ষেত্রে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।