শিরোনাম

ঠাকুরগাঁও, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্মদিন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে এতিমখানার শিশুদের নিয়ে পবিত্র কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন (জুয়েল)-এর উদ্যোগে রুহিয়া ছালেহীয়া দারচ্ছুন্নাত এতিমখানায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এ সময় বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। এছাড়াও আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।
জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনছারুল হক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মাসুদুর রহমান মুন্না, রুহিয়া থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বার, রুহিয়া থানা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মালেক মানিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেনসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া শেষে মাদ্রাসার ২ শতাধিক এতিমের জন্য একবেলা খাবারের আয়োজন করা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার ৭৯ বছরে পদার্পণ করেছেন। তিনি ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
বিএনপির এই প্রবীণ নেতার জন্মদিনে গতকাল থেকে সমর্থক-শুভ্যানুধায়ী ও দলীয় নেতা-কর্মীরা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। তারা তার সুস্বাস্থ্য ও রাজনৈতিক সাফল্য কামনা করেন।
স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলামের সংসার। তাদের দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ফেডারেল মেডিকেল কাউন্সিলে জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ রাজধানীর একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ছাত্রজীবনে তিনি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পরে তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। ১৯৮৬ সালে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
মির্জা ফখরুল ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি ১৯৮৮ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান হন।
১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন এবং ধীরে ধীরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য থেকে মহাসচিব পদে উন্নীত হন।
তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহ-সভাপতি এবং পরে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছান।
২০১১ সালে দলের তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুলকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়। তিনি ২০১৬ সালে বিএনপি মহাসচিব হন।
মির্জা ফখরুল ২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং মন্ত্রিপরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় তাকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে।