বাসস
  ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৫২

ঢাকার ১৩টি আসনে ১৩৭ জন প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরের ১৩টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ১৩৭ জন প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রার্থীদের হাতে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রতীকের চিঠি তুলে দেন।

ঢাকা মহানগরের ১৩টি আসনে (ঢাকা-৪ থেকে ঢাকা-১২, ঢাকা-১৪ এবং ঢাকা-১৬ থেকে ঢাকা-১৮) মোট ১৩৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আসনভিত্তিক প্রার্থীতা অনুযায়ী, ঢাকা-৪ আসনে ৮ জন, ঢাকা-৫ আসনে ১১ জন, ঢাকা-৬ আসনে ৭ জন, ঢাকা-৭ আসনে ১১ জন, ঢাকা-৮ আসনে ১১ জন, ঢাকা-৯ আসনে ১২ জন, ঢাকা-১০ আসনে ৯ জন, ঢাকা-১১ আসনে ৯ জন, ঢাকা-১২ আসনে ১৫ জন, ঢাকা-১৪ আসনে ১২ জন, ঢাকা-১৬ আসনে ১১ জন, ঢাকা-১৭ আসনে ১১ জন এবং ঢাকা-১৮ আসনে ১০ জন।

উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-৪ আসনে বিএনপির তানভীর আহমেদ ‘ধানের শীষ’, জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ‘দাঁড়িপাল্লা’, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মোহাম্মদ ফিরোজ আলম ‘কাস্তে’ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সৈয়দ মো. মোসাদ্দেক বিল্লাহ ‘হাতপাখা’ প্রতীক পেয়েছেন।

ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির মো. নবী উল্লা ‘ধানের শীষ’, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামাল হোসেন ‘দাঁড়িপাল্লা’, জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর ‘লাঙ্গল’ ও গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে লড়বেন।

ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির ইশরাক হোসেন ‘ধানের শীষ’, জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল মান্নান ‘দাঁড়িপাল্লা’, জাতীয় পার্টির আমির উদ্দিন আহমেদ (ডালু) ‘লাঙ্গল’ ও গণঅধিকার পরিষদের মো. ফখরুল ইসলাম ‘ট্রাক’ প্রতীক পেয়েছেন।

ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির হামিদুর রহমান ‘ধানের শীষ’ ও জামায়াতে ইসলামীর মো. এনায়াত উল্লা ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। এছাড়া দলীয় প্রতীক ‘লাঙ্গল’ পেয়েছেন জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন। 

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ‘ধানের শীষ’, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘শাপলা কলি’, গণঅধিকার পরিষদের মেঘনা আলম ‘ট্রাক’, জাতীয় পার্টির মো. জুবের আলম খান ‘লাঙ্গল’ ও জাসদের এ এফ এম ইসমাইল চৌধুরী ‘মোটরগাড়ি’ (কার) প্রতীক পেয়েছেন। 

ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির হাবিবুর রশিদ ‘ধানের শীষ’, স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা ‘ফুটবল’, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া ‘শাপলা কলি’, জাতীয় পার্টির কাজী আবুল খায়ের ‘লাঙ্গল’ ও গণফোরামের নাজমা আক্তার ‘উদীয়মান সূর্য’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির শেখ রবিউল আলম ‘ধানের শীষ’, জামায়াতে ইসলামীর মো. জসীম উদ্দীন সরকার ‘দাঁড়িপাল্লা’, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) নাসরীন সুলতানা ‘ঈগল’ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আ. আউয়াল ‘হাতপাখা’ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। 

ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির এম. এ. কাইয়ুম ‘ধানের শীষ’, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মো. নাহিদ ইসলাম ‘শাপলা কলি’, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুর রহমান ‘ট্রাক’ এবং জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে লড়বেন। 

ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. সাইফুল আলম ‘দাঁড়িপাল্লা’, আমজনতার দল মো. তারেক রহমান ‘প্রজাপতি’, জাতীয় পার্টির সরকার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ‘লাঙ্গল’ এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কল্লোল বনিক ‘কাস্তে’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া এই আসনে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে লড়বেন সাইফুল আলম নীরব। 

ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির সানজিদা ইসলাম (তুলি) ‘ধানের শীষ’, জামায়াতে ইসলামীর মীর আহমাদ বিন কাসেম ‘দাঁড়িপাল্লা’, ইসলামী আন্দোলনের মো. আবু ইউসুফ ‘হাতপাখা’ এবং গণফোরামের মো. জসিম উদ্দিন ‘উদীয়মান সূর্য’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। 

ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির মো. আমিনুল হক ‘ধানের শীষ’, জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল বাতেন ‘দাঁড়িপাল্লা’, গণঅধিকার পরিষদের মো. মামুন হোসেন ‘ট্রাক’ এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. সাইফুল ইসলাম ‘হাতপাখা’ প্রতীকে লড়বেন। 

ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে জামায়াতে ইসলামীর স. ম. খালিদুজ্জামান ‘দাঁড়িপাল্লা’, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মনজুর হুমায়ুন ‘আপেল’ ও ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মাদ উল্লাহ ‘হাতপাখা’ মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

ঢাকা-১৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আরিফুল ইসলাম ‘শাপলা কলি’, বিএনপির এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন ‘ধানের শীষ’, নাগরিক ঐক্য’র মাহমুদুর রহমান মান্না ‘কেটলি’, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাবিনা জাবেদ ‘আম’ ও ইসলামী আন্দোলনের মো. আনোয়ার হোসেন ‘হাতপাখা’ মার্কা নিয়ে এবার নির্বাচন করবেন। 

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর আগামীকাল ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করবেন।