শিরোনাম

ঢাকা, ৭ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, জুলুমতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ মুসলিম উম্মাহর জন্য শাশ্বত অনুপ্রেরণার উৎস।
আজ শনিবার ১৭ রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, ২ হিজরির ১৭ রমজান (১৩ মার্চ, ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দ) মদিনার মুসলমান ও মক্কার কুরাইশদের মধ্যে সংঘটিত বদর যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে প্রথম বৃহৎ যুদ্ধ। এই যুদ্ধের মাধ্যমে জালিম শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ-রাষ্ট্র এবং শাসননীতির বিজয় সূচিত হয়।
তিনি বলেন, বাহ্যত অল্প সংখ্যক সেনাদল নিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিপুল শক্তিধর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং আল্লাহর রহমতে বিজয় লাভ করেছিলেন। এ ঘটনা মুসলমানদের জন্য শিক্ষা ও অনুপ্রেরণার উৎস—যেখানে জালিমের বাহ্যিক শক্তিমত্তাকে উপেক্ষা করে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এই দিনে মুসলমানরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি বিশেষ দরুদ ও সালাম প্রেরণ করে এবং বদরী সাহাবায়ে কেরামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সালাম জ্ঞাপন করে।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চরমোনাই পীর বলেন, আজ বিশ্বব্যবস্থায় ন্যায় ও ইনসাফের পরিবর্তে হিংসা, লোভ ও সহিংসতা শাসননীতির মূল ভিত্তি হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক ক্ষেত্রেই আইন ও নীতির তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, কিছু মানুষের খামখেয়ালিপনা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ নানামাত্রিক সংকটে পড়ছে। প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, নিষ্পাপ শিশুরাও প্রাণ হারাচ্ছে।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, এমন পরিস্থিতিতে জুলুমতান্ত্রিক এই বিশ্বব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রামে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ চিরন্তন প্রেরণার উৎস। বাহ্যত শক্তি-সামর্থ্য কম মনে হলেও যদি সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থেকে সংগ্রাম করা যায়, তাহলে শেষ পর্যন্ত বিজয় অর্জন সম্ভব হবে—ইনশাআল্লাহ।