বাসস
  ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:১৮

নির্বাচনী ইশতেহারে তামাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান 

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারণায় ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডরপ।

তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুর লাগাম টানতে অধ্যাদেশটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আইন আকারে পাসের দাবিও জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এই দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, তামাকের ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ এর তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষ অকালে মারা যাচ্ছে। সরকার জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশোধিত অধ্যাদেশটি পাস করেছে। তবে এর স্থায়িত্বের জন্য অধ্যাদেশটিকে সংসদে পাস করা জরুরি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ এর অর্জনের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যখাতে সরকারের ব্যয় হ্রাস করতে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, তামাক খাত থেকে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, দেশে তামাকজনিত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ তার দ্বিগুণেরও বেশি।

বৈঠকে উপস্থিত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অধ্যাদেশটি আইন আকারে পাসের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তামাক হার্ট অ্যাটাকসহ নানা প্রাণঘাতী হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

অধ্যাদেশটি সংসদে আইন আকারে পাস করতে সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনের কার্যক্রম চলমান থাকবে জানিয়ে বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি বিল হিসেবে সংসদে পেশ করার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির ডেন্টিস্ট্রি অনুষদের ডিন ড. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থা, বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির পরিচালক মো. সুরাতুজ্জামান, লাইট হাউস অর্গানাইজেশনের উপদেষ্টা ওয়াহিদা ইয়াসমিন, সাবেক সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. তাসনিম লস্কর, ডরপ এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন, প্রধান নির্বাহী এএইচএম নোমান, উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান প্রমুখ।