শিরোনাম

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) চলতি মাসে ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে।
‘সাফা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স ২০২৬’ শীর্ষক এ সম্মেলনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন। এদের মধ্যে থাকবেন বিশ্বব্যাপী সকল অ্যাকাউন্ট্যান্টদের সর্বোচ্চ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (আইএফএসি)-এর প্রেসিডেন্ট জ্যঁ বুকো।
সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো ‘পরবর্তী প্রজন্মের পেশা: নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও টেকসই প্রতিবেদন একীভূতকরণ’।
সাফা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের বিস্তারিত তুলে ধরতে আজ রাজধানীর কাওরান বাজারে সিএ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আইসিএবি।
সংবাদ সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন আইসিএবি প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন। এ সময় সাফা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফরহাদ হোসেন, আইসিএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রোকনুজ্জামান, সিইও শুভাশীষ বসু এবং চিফ অপারেটিং অফিসার মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকী বক্তব্য দেন। এ ছাড়াও আইসিএবি কাউন্সিল সদস্য জেরিন মাহমুদ হোসেন ও এমরান হোসেন উপস্থিত ছিলেন। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, হিসাববিদ্যা পেশার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং টেকসই প্রতিবেদনের কৌশলগত সমন্বয়ের ওপর। আজকের প্রযুক্তি কেবল উন্নয়নকে সহায়তা করছে না-এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল পেশাগত কাঠামোকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে।
তাই আগামী প্রজন্মের হিসাববিদদের অবশ্যই দ্বৈত দক্ষতায় পারদর্শী হতে হবে। একদিকে অ্যালগরিদমিক নৈতিকতা পরিচালনা এবং অন্যদিকে আর্থিক নয় এমন প্রভাব যাচাই, যাতে অংশীজনদের আস্থা তৈরি হয় এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির দিকে পুঁজি প্রবাহ পরিচালিত হয়।
বক্তারা আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্মার্ট শাসনব্যবস্থা, শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা ও আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দেশের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ক্রমেই তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে আইটি সেবা প্রদান, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ এবং শাসনব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।
ডিজিটাল পেমেন্ট ও মোবাইল আর্থিক সেবা লক্ষ লক্ষ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় এনেছে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা জোরদার করেছে, উদ্যোক্তা কার্যক্রমকে সহায়তা করেছে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে, আইসিএবি আগামী ১৭ জানুয়ারি ‘পরবর্তী প্রজন্মের পেশা: নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও টেকসই প্রতিবেদন একীভূতকরণ’ শীর্ষক সাফা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স ২০২৬ আয়োজন করতে যাচ্ছে।
এই সম্মেলন সরকারের ‘নিউ বাংলাদেশ’ দর্শনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এথিক্যাল এআই গ্রহণের মাধ্যমে পেশাদার হিসাববিদরা উদ্ভাবন ত্বরান্বিত ও স্বচ্ছতা বাড়াতে পারবেন, আর সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং নিশ্চিত করবে জবাবদিহি ও দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধি। নৈতিকতা, প্রযুক্তি ও টেকসইয়ের এই সমন্বয় বাংলাদেশের একটি প্রগতিশীল ও বিশ্বস্বীকৃত জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
এই শীর্ষস্থানীয় আঞ্চলিক সম্মেলনে বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশ্ব থেকে ৫০০’র বেশি পেশাজীবী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, শিক্ষাবিদ ও চিন্তাবিদ অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
তাদের উপস্থিতি হিসাব ও আর্থিক খাতে পেশাগত উৎকর্ষ, নৈতিক মানদণ্ড এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় সমর্থনের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়।
সম্মেলনের উদ্দেশ্য হলো ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য সাফা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংযোগের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গঠনের উদ্যোগের গুরুত্ব ও প্রভাব তুলে ধরা।
আইসিএবি’র আমন্ত্রণে এই সম্মেলনে প্রথমবারের মতো ঢাকায় সম্মানিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (আইএফএসি)-এর প্রেসিডেন্ট জ্যঁ বুকো। তার অংশগ্রহণ সম্মেলনের বৈশ্বিক গুরুত্বকে তুলে ধরে এবং টেকসই প্রতিবেদন, নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভবিষ্যৎ পেশাগত চর্চা নিয়ে আলোচনার সুদূরপ্রসারী প্রভাবকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়।
এই সম্মেলন জাতীয় নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক দক্ষতার এক ঐতিহাসিক মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পেশাগত সংযোগ ও সহযোগিতা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া উল্লেখযোগ্য যে, এ অনুষ্ঠানে সাউথ এশিয়া ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (সাফা)-এর নেতৃত্বের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। আইসিএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ২০২৬ সালের জন্য সাফার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং আইসিএবির চিফ অপারেটিং অফিসার মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকী সাফার নির্বাহী সচিবের দায়িত্ব নেবেন।
সাফা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফারহাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা তাদের অভিনন্দন জানাই। জনসাধারণের সঙ্গে আমাদের কাজের সংযোগস্থল হিসেবে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা আমরা অত্যন্ত মূল্যয়ন করি এবং এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর আমরা খোলামেলা ও পূর্ণাঙ্গভাবে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
সম্মেলনে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা, করপোরেট নেতা, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও হিসাব পেশাজীবীরা অংশ নেবেন। এর মাধ্যমে সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ও কারিগরি সেশনসমূহে বিস্তৃত সংলাপ, জ্ঞান বিনিময় ও সহযোগিতা জোরদার হবে।
সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিভাগের ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)-এর চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন।
আইসিএবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট (শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ) মো. রোকনুজ্জামান উদ্বোধনী ও সকল টেকনিক্যাল সেশনের আলোচনা সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করবেন।