শিরোনাম

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে বিভিন্ন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে ৫৩১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রশান্ত কুমার হালদারসহ (পিকে হালদার) ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ১২টি পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ দুদক প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।
দুদক জানায়, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্স থেকে ১২টি প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৪৩৩ কোটি ৯৬ লাখ ১৮ হাজার ৯ টাকা ঋণ অনুমোদন দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়। সুদসহ ঋণের মোট স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩১ কোটি ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৯ টাকা।
মামলাগুলো ১৩ জানুয়ারি দায়ের করা হয়। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান ১ ও ২ নম্বর মামলার এবং উপসহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকন বাকি ১০টি মামলার বাদী।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে নতুন ও কাগুজে প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করে ঋণ গ্রহণ করেন। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের কোনো বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল না। কোথাও ১-২টি কিস্তি পরিশোধ করা হলেও অনেক ঋণের ক্ষেত্রে একটিও কিস্তি পরিশোধ করা হয়নি। এরপরও বোর্ড সভায় কোনো আপত্তি ছাড়াই ঋণগুলো পুনঃতফসিল (রিসিডিউল) করা হয়।
মামলার উল্লেখযোগ্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন- রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার), এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ছিদ্দিকুর রহমান, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল শাহরিয়ার ও মো. মফিজ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান মাহফুজা রহমান বেবী, সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল হাফিজ ও আব্দুল মোতালিব আহমেদ। এ ছাড়া এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক একাধিক পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণও এ মামলার অভিযুক্ত।
দুদকের তদন্তে আরও জানা যায়, ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ব্যবহৃত প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানাগুলোতে বর্তমানে কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে এসব ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলাগুলোতে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।