
ঢাকা, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪৮তম বার্ষিক সভা চলছে আজ।
একাডেমির প্রাঙ্গণে নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এসময় বাংলা একাডেমি ফেলো, জীবনসদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পবিত্র কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়।
সভাটি বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক আয়োজন, এখানে বিভিন্ন শাখায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
বাংলা একাডেমির সাহিত্য ও নাটকের নানা শাখায় অবদানের জন্য আট জনকে বিভিন্ন পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে। আজ পুরস্কৃতদের হাতে বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪৮তম বার্ষিক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়েছে।
ভাষাভিত্তিক গবেষণার জন্য এ বছর ‘সাহিত্যিক মোহম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন অধ্যাপক মনসুর মুসা। পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ লাখ টাকা। প্রকৃতি ও বিজ্ঞান চর্চার জন্য ‘মেহের কবীর বিজ্ঞানসাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন খসরু চৌধুরী। অর্থমূল্য ১ লাখ টাকা। বাংলা কবিতায় অবদানের জন্য ‘মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার’ পেয়েছেন সানাউল হক খান। অর্থমূল্য ১ লাখ টাকা। ‘সাদত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন হাফিজ রশিদ খান। নৃ- গোষ্ঠীর জীবন ও সাহিত্য বিষয়ে গবেষণার মূল্যায়নে পুরস্কারটি পেয়েছেন তিনি। অভিনয়, নাট্য-নির্দেশনায় ও সংগঠক হিসেবে অবদানের জন্য ‘অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন আহমদ নাট্যজন পুরস্কারে’ ভূষিত হয়েছেন তারিক আনাম খান। এ দু’টি পুরস্কারের অর্থমূল্যও ১ লাখ টাকা।
অনুবাদ সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য ‘আবু রুশ্দ সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন শিবব্রত বর্মন। পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ লাখ টাকা।
গণিতকে সহজবোধ্য ও উপভোগ্যভাবে উপস্থাপনের জন্য ‘হালীমা-শরফুদ্দীন বিজ্ঞান পুরস্কার’ পাচ্ছেন সফিক ইসলাম। ‘গণিতের রাজ্যে আনন্দভ্রমণ’ গ্রন্থের জন্য পুরস্কারটি পেলেন তিনি। এর অর্থমূল্য ৫০ হাজার টাকা। ‘রাবেয়া খাতুন কথাসাহিত্য পুরস্কার-২০২৫’ পেয়েছেন দু’জন। পুরস্কারের অর্থমূল্য ২ লাখ টাকা। তারা হলেন- কথাসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। সুব্রত বড়ুয়া।
অন্যদিকে, অনূর্ধ্ব ৪৯ বছর বয়সী লেখকদের মধ্যে এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন আনিসুর রহমান। ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘সিসিফাস শ্রম’ গল্পগ্রন্থের জন্য তিনি পুরস্কারটি পেয়েছেন। এক্ষেত্রে পুরস্কারটির অর্থমূল্য ১ লাখ টাকা।
বাংলা একাডেমি সান্মানিক ফেলোশিপ প্রদান করে সাত জন বিশিষ্ট ব্যাক্তিত্ব্যকে। প্রতিবছর নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তারা সান্মানিক পুরস্কার পেয়ে থাকেন। এবছর যারা বাংলা একাডেমি ফেলো পুরস্কার অর্জন করেছেন এসব গুণী ব্যক্তিরা হলেন, সাংবাদিকতা বিভাগে ফিলিপ গাইন, অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ,
চিত্রকলা বিভাগে চিত্রশিল্পী সমর মজুমদার,ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপক পারভীন হাসান, শিল্পকলা বিভাগে মারিনা তাবাশ্যুম, বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপক বিজন কুমার শীল।
বাংলা একাডেমি ফেলোরা সন্মাননা পদক,সনদ ও পুষ্পস্তবকে ভূষিত হন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের সভা চলছে। এতে বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজেট সম্পর্কে আলোচনা, সদস্যদের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাব আলোচনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলবে।