শিরোনাম
ঢাকা, ৩১ আগস্ট, ২০২৫ (বাসস) : দেশে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিটিআরসি সদর দপ্তরসহ ভোলা ও বগুড়ায় পৃথক এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে প্রাথমিক তদন্তে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির আলামত পাওয়া গেছে।
দুদক জানায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-তে নিবন্ধন ছাড়াই টিভ্যাস সেবার অনুমোদন, রাজস্ব ফাঁকি, বন্ধ করপোরেট সিম সচলের আশ্বাস দিয়ে ঘুষ গ্রহণ, সভা আয়োজনের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতসহ নানাবিধ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালায়।
এনফোর্সমেন্ট টিম সরেজমিনে বিটিআরসি সদর দপ্তরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা এবং প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। পর্যালোচনায় কয়েকটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পরিলক্ষিত হয়।
এদিকে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অপর একটি অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, বরিশালের টিম ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বরাদ্দকৃত প্রকল্পসমূহ পরিদর্শন করে।
দেখা যায়, বেশ কিছু প্রকল্পে আংশিক কাজ হলেও চূড়ান্ত বিল জুন ২০২৫-এর মধ্যেই উত্তোলন করা হয়েছে। আবার কিছু প্রকল্পে কোনো কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। এসব অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছে দুদক টিম। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দুদক বলেছে, পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড বিশ্লেষণ শেষে এ বিষয়ে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
এছাড়া বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরেকটি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযোগ ছিল, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে অনিয়ম, হয়রানি ও শৃঙ্খলাভঙ্গ। দুদকের জেলা কার্যালয়, বগুড়ার টিম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করে, রোগীদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন রেজিস্টার যাচাই করে।
তদন্তে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট এবং চিকিৎসাসেবা প্রদানে গাফিলতি রয়েছে। রোগীদের কাছ থেকে নানা ধরনের হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগও উঠে আসে। দুদক টিম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাকে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। এছাড়াও অন্যান্য অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত যাচাইয়ের জন্য নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, এসব অভিযানের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা উদ্ঘাটন হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।