বাসস
  ৩০ আগস্ট ২০২৫, ২৩:৪৭

দেশের প্রতিটি আন্দোলনে শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য : সেমিনারে বক্তারা

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা (উত্তর), ৩০ আগস্ট, ২০২৫ (বাসস) : শিক্ষা গবেষণা সংসদ-ঢাকা আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষকদের অবদান ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তবে কিছু শিক্ষক দলীয় স্বার্থে জড়িত হয়ে শিক্ষকতার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।

আজ শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম কোরবান আলী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী বলেন, শিক্ষকতা ও রাজনৈতিক কর্মীর ভূমিকা একসাথে চলে না। রাজনীতি গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ হলেও তা ক্যাম্পাসের ভেতরে নয়, বরং রাজপথে পালন করা উচিত।

তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা শিক্ষার্থীর পাশে থেকে ত্যাগ স্বীকার করেছেন। গণতন্ত্রকামী দেশপ্রেমিক শিক্ষকরা শিক্ষার্থীর রক্তের সঙ্গে আপস করেননি। তিনি নতুন বাংলাদেশ গঠনে শিক্ষকদের নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সেমিনারে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রবের উপস্থাপিত প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. বেলাল হোসাইন, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক, সাংবাদিক নেতা শহিদুল ইসলাম, কারিগরি শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ আবুল আজিজ এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদের সেক্রেটারি ড. আবদস সবুর মাতাব্বরসহ বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. এম কোরবান আলী বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ছাত্র-শিক্ষক-জনতার ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতে যেসব শিক্ষক ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছিল, তারা আজও নতুন রূপে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। ফ্যাসিবাদের পতন না হলে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কেউ রক্ষা পেত না।

জাতির অর্জন নস্যাৎ করতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরাজিত শক্তির প্রথম কাজ হবে বিভাজন সৃষ্টি করা। তাই ঐক্যে ফাটল ধরতে দেওয়া যাবে না। আসন্ন নির্বাচনে শিক্ষকদের নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান তিনি।