শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : প্রত্যেক গুমের ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
আগামীকাল ৩০ আগস্ট ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ সামনে রেখে আজ চিফ প্রসিকিউটর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেক মানুষ গুম-খুনের শিকার হয়েছে। যারা গুমের শিকার এবং যারা এখন পর্যন্ত তাদের পরিবারের সদস্যদের সন্ধান পাননি, সেসব পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই প্রতিশ্রুতি দিতে চাই যে, প্রত্যেকটি গুমের ঘটনার ন্যায়বিচার আমরা নিশ্চিত করবো। গুমের মতো অপরাধের সাথে যারা সম্পৃক্ত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ গুমের শিকার না হন। গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যারা দোষী সাব্যস্ত হবে আমরা তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করবো।’
চিফ প্রসিকিউটর আরো বলেন, সমাজের যত বড় ব্যক্তি হোক কাউকেই কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। গুমের অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদেরকেই বিচারের সম্মুখীন করবো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কারাগারে পাঠিয়েছে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ব্রিগেডিয়ার আযমী, ব্যারিস্টার আরমান ও বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের বিচার কার্যক্রম চলছে।
অন্যদিকে গুমের শিকার প্রায় ২৫০ জনের পরিবারের অভিযোগ এসেছে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর আরো বলেন, আমরা আশা করি এ বছরের মধ্যেই ২৫০ জন গুম পরিবারের সদস্যের পক্ষ থেকে করা অভিযোগের তদন্ত শেষ করি অপরাধীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসবো।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আগামীকাল। জোরপূর্বক গুম একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে, এ ধরনের ঘটনাঘটে থাকে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময় ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবার তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারে না এবং বিচার পাওয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়।
জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী গুমের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, স্মরণ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে আসছে।