বাসস
  ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৫:০৩
আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৬:২৯

২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনা হবে: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী

আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনা-পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য অ্যাম্বুলেন্স প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: বাসস

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা-পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য অ্যাম্বুলেন্স প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, হেলমেট ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। ২০২৪ সালে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিদিনই অসংখ্য প্রাণ ঝরে যাচ্ছে—এ পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন হাইওয়ে পুলিশ আইন প্রয়োগ করে এবং দুর্ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাই তিনটি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, জনসচেতনতার অভাব, অতিরিক্ত গতি এবং হেলমেট ব্যবহার না করা সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এসব দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি জানান, সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় চালকদের প্রশিক্ষণ ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পথচারীদের সচেতনতার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মহাসড়কের পাশে বাজার, স্কুল ও কলেজ এলাকায় অনেকেই ওভারপাস ব্যবহার না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাস্তা পার হন। এ মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।

মন্ত্রী জানান, সরকার একটি সমন্বিত নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে কার্যকর হবে। পাশাপাশি বাস ও ট্রাকের আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করে পুরোনো যানবাহন স্ক্র্যাপ ও রিসাইক্লিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন সড়কে মার্কিং ও নিরাপদ সংযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, তেমনি জনগণকে নিয়ম মানতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করতে হবে।

দুর্ঘটনা-পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। অনুষ্ঠানে অ্যাম্বুলেন্স ও বাইক অ্যাম্বুলেন্স প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। তিনি বলেন, বাইক অ্যাম্বুলেন্স দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে সক্ষম হবে।

হাইওয়ে পুলিশের জনবল সংকটের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে প্রকল্পের আওতায় মোটরসাইকেলসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তা ও সরকারি অর্থায়নে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে প্রকল্পের সফলতার প্রকৃত মাপকাঠি হবে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কতটা কমানো সম্ভব হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের দায়িত্ব নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা করা। ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতেই হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি, হাইওয়ে পুলিশ, পরিবহন খাতের প্রতিনিধি এবং নিরাপদ সড়ক নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।