বাসস
  ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৩৩

মহাসড়কের পাশে চালকদের জন্য আরো বিশ্রামাগার নির্মাণ করতে হবে: শিমুল বিশ্বাস

ছবি : বাসস

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): মহাসড়কের পাশে চালকদের জন্য আরও বিশ্রামাগার নির্মাণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের মুখ্য সমন্বয়ক ও পাবনা-৫ (পাবনা সদর) আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

তিনি বলেছেন, সড়কপথে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা ও সংকটের সমাধান এখন সময়ের দাবি। নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চালকদের বিশ্রামের সুযোগ, ট্রমা সেন্টার, অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চালক ও পুলিশের দক্ষতা এবং দায়িত্বশীলতা বাড়াতে হবে।

আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা-পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য অ্যাম্বুলেন্স প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিমুল বিশ্বাস বলেন, শৃঙ্খলাপূর্ণ, স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যারা কাজ করছেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সেই উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ এবং সড়ক পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকরা সড়কপথের প্রধান শক্তি। তাদের মধ্যে দায়িত্ব ও সচেতনতার বোধ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি বলে আমার মনে হচ্ছে।’

শিমুল বিশ্বাস বলেন, সড়কপথে বিদ্যমান পরিস্থিতিকে অসহনীয় উল্লেখ করে শিমুল বিশ্বাস বলেন, এই ব্যবস্থা পরিবর্তন হতেই হবে।

তিনি বলেন, সড়কে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা ও বিদ্যমান সংকটের সমাধান এখন সময়ের দাবি। নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা শুধু যোগাযোগব্যবস্থার বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও নাগরিকদের নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

তিনি আরো বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সড়ক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

শিমুল বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়কে যানবাহন চালানোর কারণে চালকদের মধ্যে ক্লান্তি ও অবসাদ তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চালকদের জন্য পর্যাপ্ত ও আধুনিক বিশ্রামাগার নির্মাণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, চালকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে বিশ্রামের ব্যবস্থা করা গেলে দীর্ঘপথে গাড়ি চালানোর কারণে সৃষ্ট ক্লান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। ফলে চালকদের মনোযোগ ও কর্মদক্ষতা বাড়বে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে। তাই মহাসড়কের পাশে পরিকল্পিতভাবে আরও বিশ্রামাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। তার মতে, দুর্ঘটনা ঘটার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া গেলে অনেক প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। এ জন্য মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স, ট্রমা সেন্টার এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘মহাসড়কের পাশে চালকদের বিশ্রামাগার, ট্রমা সেন্টার ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, চালক ও পুলিশের দক্ষতা এবং দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব।’

শিমুল বিশ্বাস আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; পরিবহন মালিক, শ্রমিক, চালক, পুলিশ, পথচারী এবং সাধারণ নাগরিক, সব পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সড়কে আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাগুলো দূর করতে হবে।

তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা একটি সমন্বিত বিষয়। অবকাঠামোর উন্নয়ন, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, চালকদের প্রশিক্ষণ, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা, সবগুলো বিষয় একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকলে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের ভাবমূর্তির সঙ্গেও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার বিষয়টি জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি দেশের সড়কব্যবস্থা কতটা নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল, তার ওপর নাগরিকদের জীবনমানের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তিও অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তিনি নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে যারা কাজ করছেন, তাদের সাফল্য কামনা করে অনুষ্ঠানের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, সড়ক পরিবহন খাতের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।