বাসস
  ১৮ জুলাই ২০২৬, ১৩:৩০
আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১৫:১২

ঋণসংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান তিতুমীরের

নিউইয়র্কে ইউনিসেফ হাউসে ইউনিসেফের মানবিক কার্যক্রম ও সরবরাহ কার্যক্রম বিষয়ক উপ-নির্বাহী পরিচালক টেড শাইবানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবি: ইউনিসেফ

ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য বৈশ্বিক সংকটের কারণে সৃষ্ট আর্থিক চাপ মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ঋণ পুনর্গঠন, ঋণ মওকুফ ও পরিশোধ স্থগিতকরণ এবং টেকসই ঋণ সমাধানে জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো যাতে শিশু, নারী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে পারে এবং একইসঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি ধরে রাখতে পারে, সে জন্য এ ধরনের উদ্যোগ জরুরি।

আজ (শনিবার) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিউইয়র্কে ইউনিসেফ হাউসে ইউনিসেফের মানবিক কার্যক্রম ও সরবরাহ কার্যক্রম বিষয়ক উপ-নির্বাহী পরিচালক টেড শাইবানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং ঋণের বাড়তি বোঝা বাংলাদেশের আর্থিক সক্ষমতার পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত করেছে।

তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সরকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের আলোকে একটি গণতান্ত্রিক মানবকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিও উপস্থিত ছিলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, সরকার সর্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। যেখানে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে নারী। 

তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগের মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি গর্ভাবস্থা, শৈশব, শিক্ষা, প্রতিবন্ধিতা ও বার্ধক্যসহ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত তথ্যব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি সরকারের প্রস্তাবিত ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান কার্ড, ওয়ান নম্বর অ্যান্ড ওয়ান ওয়ালেট’ কৌশলের কথা তুলে ধরেন। এ কৌশলের মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং সরকারি সেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার আরও সহজ হবে।

তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়াতে ডিজিটাল প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারে ইউনিসেফের সহযোগিতাও কামনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, জাদুঘর পরিদর্শন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম শিশুদের সার্বিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

ইউনিসেফের উপ-নির্বাহী পরিচালক টেড শাইবান বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়াকে স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, উল্লেখযোগ্য আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সরকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে শিশু ও নারীর সুরক্ষায় যে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার।

বৈঠকে তুলে ধরা অগ্রাধিকারগুলোকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষা, প্রাথমিক শৈশব উন্নয়ন, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিশুকেন্দ্রিক তথ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন টেড শাইবান।