শিরোনাম

রংপুর, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): তথ্য ও সম্প্রচার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, চীন যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মাস্টার প্ল্যান (টিএমপি)বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীন-উভয় সরকারই টিএমপি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে প্রকল্পের যাচাই প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন না হওয়ায় এই মুহূর্তে কাজ শুরু করা সম্ভব নয়।’
আজ বিকেলে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তেপামধুপুর তালুক শাহবাজপুর এলাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে সঙ্গে তিস্তা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
রিজওয়ানা হাসান জানান, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোও আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে তিস্তা মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তাই ২৬ জানুয়ারির মধ্যে তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু হবে না; আমরা কিছু সময় দিচ্ছি যাতে কাজ আরও ভালোভাবে হয়। এ নিয়ে হতাশার কিছু নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পটি পাওয়ার পর আমরা জাতীয় পর্যায়ে জনশুনানি ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে তা চীনে পাঠিয়েছি। এখন চীনা বিশেষজ্ঞরা তা খুঁটিয়ে যাচাই করছেন।’
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, তারা প্রকল্পটি খুব ভালোভাবে যাচাই করছেন, যাতে কোনো ভুল ছাড়াই কাজ সম্পন্ন করা যায়, কারণ বাংলাদেশের জনগণের এ প্রকল্প নিয়ে অনেক প্রত্যাশা রয়েছে।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘তিস্তা মাস্টার প্ল্যান একটি তুলনামূলক জটিল প্রকল্প। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙন প্রতিরোধ ও সেচ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ কারণেই এর বাস্তবতা যাচাইয়ে চীন কিছু সময় নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল বিষয় হলো বন্ধুত্ব। চীন যেহেতু প্রতিবেশী দেশ, তাই তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের নদীরও সম্পর্ক রয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘এ ছাড়া চীন একটি বড় হাসপাতাল নির্মাণে এগিয়ে এসেছে। এ জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিস্তা মাস্টার প্ল্যানের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল, অন্তর্বর্তী সরকার এই কাজটি ফেলে রাখেনি।’
উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো এই প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। তাই হতাশা ছড়ানো যাবে না। তিনি বলেন, যদি একটি গবেষণার পর একটি চুক্তি হয়, তবে পরবর্তীতে অর্থ পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে যায়। তাই উভয় দেশের জন্য সহনীয় এবং জনগণের জন্য ভালো এমন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোনো উচিত।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা নদীর ন্যায্য পানি বণ্টন অর্জন একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এটি একটি বড় রাজনৈতিক বিষয়ও বটে।
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি নির্বাচিত সরকার এসে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কাজ করবে। গঙ্গা ও তিস্তার ক্ষেত্রে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি, যাতে নির্বাচিত সরকারকে এসে কাজ শুরু করতে আর অপেক্ষা করতে না হয়।’
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, রিভারাইন পিপল-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে উপদেষ্টা চীনের রাষ্ট্রদূত ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত তিস্তা সড়ক সেতু ও রেলওয়ে সেতু পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলা ঘিরে থাকা তিস্তা নদীর প্রকৃতি ও সংকট তুলে ধরেন।
পরে উপদেষ্টা চীনের রাষ্ট্রদূত ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিস্তা রেলওয়ে সেতু এলাকা থেকে নৌকায় তিস্তা নদী পরিদর্শন করেন।