শিরোনাম

ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : অন্তর্ভুক্তিমূলক, বাসযোগ্য ও জলবায়ু-সহনশীল নগর গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার পুরোপুরি বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন। তিনি উল্লেখ করেন, এ লক্ষ্য অর্জনে প্রণীত জাতীয় নগর নীতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ রাজধানীতে ‘জাতীয় নগর ফোরাম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহযোগিতা প্রদান করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)।
ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন বলেন, “জাতীয় নগর নীতির টেকসই কাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিটি শহরকে বাসযোগ্য করে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য—নগরে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিক যেন তার প্রাপ্য সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস করতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নগরবাসীর জীবনে যেন কোনো দুর্ভোগ নেমে না আসে, সে বিষয়ে সরকার সার্বক্ষণিক সজাগ দৃষ্টি রাখছে।

প্রতিমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমরা আমাদের প্রিয় শহরগুলোকে শুধু বর্তমান সময়ের জন্যই বাসযোগ্য করতে চাই না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই; যাতে তারা দূষণমুক্ত বাতাসে মুক্তভাবে শ্বাস নিতে পারে।”
আলোচনায় অংশ নিয়ে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স বলেন, “এই ফোরামের আয়োজনই শেষ কথা নয়; বরং নগর নীতি নিয়ে আজ আমরা যা আলোচনা করেছি, তা বাস্তবায়ন করার জন্য এটি একটি যৌথ দায়বদ্ধতার শুভসূচনা।”
ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার ও উন্নয়ন পরিচালক জেমস গোল্ডম্যান আশা প্রকাশ করে বলেন, এই ফোরামটি বাংলাদেশে টেকসই নগর উন্নয়নে সহায়তাকারী উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করবে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর আকিরা মাতসুনগা বলেন, “বাংলাদেশের নগর উন্নয়ন খাতে এডিবি দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার। শহরগুলোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, বাসযোগ্য ও অর্থনৈতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার লক্ষ্যে সহায়তা জোরদার করাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার।”
অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচনায় ঢাকা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক করিডোরকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীভূত বিনিয়োগের সুবিধার পাশাপাশি যানজট, জলাবদ্ধতা, অপ্রতুল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ দূষণ এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সীমিত সক্ষমতার মতো বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।