শিরোনাম

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘কনফারেন্স অন নেভিগেটিং ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর এচিভিং এসডিজিএস : পলিসি, পার্টনারশিপ অ্যান্ড প্রায়োরিটিজ’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, এসডিজি কোনো একক মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিত করে একটি জাতীয় উন্নয়ন কাঠামো। বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য বিশেষ করে এসডিজি ১৩ এনক্লাইমেট অ্যাকশন জিইএস এসডিজি ১৫-লাইফ অন ল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি এসডিজি সূচকের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করে সেগুলোকে অন ট্র্যাক, অ্যাট রিস্ক এবং ক্রিটিকাল-এই তিন শ্রেণিতে চিহ্নিত করা যেতে পারে। যেসব সূচক বর্তমান গতিতে ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে, সেগুলোকে ন্যাশনাল এসডিজি প্রায়োরিটি টার্গেটস হিসেবে নির্ধারণ করে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সীমিত সম্পদ দিয়ে কোথায় সবচেয়ে বেশি ফল অর্জন করা সম্ভব, সেটিই অগ্রাধিকারভিত্তিক এসডিজি পরিকল্পনার মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত।
নীতিসামঞ্জস্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, শুধু নতুন নীতি প্রণয়ন করলেই হবে না; বিদ্যমান নীতি, পরিকল্পনা, বাজেট ও উন্নয়ন কর্মসূচিকে একই জাতীয় ফলাফলের দিকে পরিচালিত করতে হবে। বায়ুদূষণের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এ সমস্যা শুধু পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নীতির মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়; পরিবহন, শিল্প, জ্বালানি, নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য, গবেষণা ও প্রযুক্তি-সব খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ জন্য পলিসি কোহেরেন্স ও পলিসি কনভার্জেন্স অপরিহার্য।
এসডিজি অর্থায়নের ক্ষেত্রে শুধু সরকারি বাজেটের ওপর নির্ভর না করে গ্রিন ফিন্যান্স, ক্লাইমেট ফিন্যান্স, ব্লেন্ডেড ফিন্যান্স, প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট জিইএস ডেভেল্পমেন্ট পার্টনার ফিন্যান্সিং আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিবেশগত টেকসইতাকে শুধু ব্যয় নয়, বরং বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবেও দেখতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ২০৩০ সাল এখন আর দূরে নয়। আগামী কয়েক বছরই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ এসডিজি অর্জনের পথে কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগোতে পারবে। বিদ্যমান নীতি, প্রতিষ্ঠান, বাজেট, তথ্য, প্রযুক্তি ও অংশীদারিত্বকে একটি অভিন্ন জাতীয় ফলাফলের দিকে সমন্বিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসডিজিকে শুধু আন্তর্জাতিক রিপোর্টিং কাঠামো হিসেবে নয়, বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের বাস্তব জাতীয় কর্মপরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্যানেল আলোচক হিসেবে বুয়েটের প্রফেসর ড. ইজাজ হোসেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া উপস্থিত ছিলেন।