বাসস
  ১১ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫৬
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৩:২০

টেকসই উন্নয়নের জন্য সঠিক তথ্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি: রিজভী

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ছবি: বাসস

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬(বাসস): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সঠিক তথ্য উপস্থাপন না হলে উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

আজ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলো স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নীতিগুলোর কার্যকর প্রয়োগের দিকটি এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

তথ্যের ব্যবহার, পুনর্ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত তথ্য প্রকাশ না করলে উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় অনেক সময় আমাদের মূল্যবোধের ঘাটতি হয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থে, ব্যক্তি স্বার্থে প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি কম করে দেখানো, আবার কোনটা  বেশি করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এটা সংগত নয়। এসব তথ্য যদি সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়, সঠিক জিনিসটা যদি দেখানো যায়-তাহলে আমাদের যে টেকসই উন্নয়নের কথা বলছি। সেটা যথার্থভাবে হবে বলে আমি মনে করি।’


তিনি বলেন, প্রতিটি তথ্য-উপাত্ত যথাযথভাবে উপস্থাপন এবং তার ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করে করণীয় নির্ধারণ করা গেলে একটি শক্তিশালী মূল্যবোধ ভিত্তিক কাঠামো তৈরি হবে। এতে উন্নয়ন আরও টেকসই হবে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে যে অঙ্গীকারগুলো করেছে, তার অনেকগুলোই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৭টি লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- সবার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, দক্ষতা ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে উন্নয়ন, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ধর্মীয় নেতাদের জন্য ভাতা, বিনামূল্যে ইন্টারনেট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালুর মতো বিভিন্ন উদ্যোগ এসডিজির বিভিন্ন লক্ষ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

রিজভী বিশেষ করে এসডিজির ১৬ নম্বরের লক্ষ্য- শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শান্তি, স্থিতিশীলতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না। রাষ্ট্র ও সমাজে গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়লে জবাবদিহিতাও বৃদ্ধি পায়। জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের সাথে ন্যায়বিচারের চমৎকার একটা সম্পর্ক আছে। যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হয় তাহলে টেকসই উন্নয়ন কখনোই হতে পারে না। কারণ এই উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা ধরনের অসঙ্গতি থাকে। নানা ধরনের দুর্নীতি থাকে। আমরা যদি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র দেখতে চাই সেখানে জবাবদিহিতার পরিসর থাকবে। ন্যায়বিচারের ধারণা বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতির গভীরে রয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা দায়িত্বে থাকেন, তাদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যদি কোনো ধরনের বাধা ছাড়া গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকত, তাহলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যেতে পারত। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশ এগিয়েছে। খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে। 

তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য একটি সমন্বিত ও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে রাজনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় থাকবে।

তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ এসডিজির বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জন বাংলাদেশের জন্য কঠিন নয়, যদি সমন্বিতভাবে কাজ করা যায়।

অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা ড. এম মাশরুর রিয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবু আহমেদ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার এবং অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।