শিরোনাম

ঢাকা, ১৫ মে, ২০২৬ (বাসস) : সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাস ও সংস্কৃতি রয়েছে। কালের বিবর্তনে এর অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। লুপ্ত এসব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধারে কাজ করছে সরকার।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে, একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে -নেপাল-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ আয়োজিত ‘নেপাল ফেস্টিভ্যাল-২০২৬ কালচারাল প্রোগ্রাম’-এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আজ এসব কথা বলেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে থাকা সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আমাদের জাতিসত্তা। বিভিন্ন পাহাড় ও সমতলে যেসব জাতিগোষ্ঠী, বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষ বসবাস করে তা পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ নানা রূপ ও বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ একটি দেশ। এক সময় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষ তাদের ভাগ্য অন্বেষণের জন্য বাংলায় ছুটে এসেছে। বাংলার সমৃদ্ধি ও প্রাচুর্য তাদের টেনে এনেছে এই দেশে। এর যে সংস্কৃতি রয়েছে, তাতে সমৃদ্ধ বাংলার মানুষ কখনো অন্য দেশে এমন করে ভাগ্য অন্বেষণের জন্য যায়নি। সুতরাং দেশের এসব সম্পদ রক্ষা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজা উদ্দীন স্টালিন, পোখরা বাংলাদেশ-নেপাল ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির সভাপতি মশিউর রহমান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
নেপালের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল এই দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতির বিকাশ প্রায় হাজার বছরের। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ-এর আবিষ্কার করেছিলেন নেপালের রাজদরবার থেকে। সে সময় থেকেই বাংলাদেশের সাথে নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রয়েছে।
তিনি বলেন, নেপাল ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে খাদ্য, সংস্কৃতি ও জীবনাচারে প্রচুর মিল রয়েছে। এ দুই দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারা দুই দেশের মানুষকে একীভূত করেছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে নেপালি শিক্ষার্থীদের আয়োজনে নেপালের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।