শিরোনাম

রংপুর, ১৫ মে, ২০২৬ (বাসস) : পদ্মা ব্যারাজের উদ্যোগকে অভিনন্দন জানাই কিন্তু তিস্তার বিনিময় নয়। তিস্তার জায়গায় তিস্তাকে অবশ্যই তার পাওনা দিতে হবে। অবশ্যই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ সন্ধ্যায় রংপুর শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে শুধী সমাবেশে অংশ নেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর ৫৫ বছরেও এ অঞ্চলের (উত্তরাঞ্চলের) মানুষ তাদের ন্যূনতম পাওনাটুকু সরকারের কাছ থেকে পায়নি।
শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশকে যদি ইকোনমিক ডেমোগ্রাফির দিক থেকে ভাগ করা হয়, তাহলে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা এলাকার নাম উত্তরবঙ্গ। রাজধানী থেকে যে জেলা যত দূরে, সে তত বেশি সুবিধাবঞ্চিত ও অধিকারবঞ্চিত। বিশেষ করে তিস্তা বেষ্টিত আপনাদের এই এলাকা।
উত্তরাঞ্চলের নদীভাঙন, পানি সংকট ও কৃষি দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, নদীগুলো একসময় রহমত ছিল, কিন্তু এখন সেই নদীগুলো এখন মানুষের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের পর বছর পলি ও বালু জমে নদীগুলো হয়ে গেছে মরুভূমি। বর্ষা মৌসুমের পানি ধারণ করার ক্ষমতা নেই। ফলে বর্ষায় নদী দুই পাড় ভেঙে যাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ও স্বপ্ন বালুর সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। আবার শুকনো মৌসুমে কৃষকরা ফসল ফলানোর প্রয়োজনীয় সেচের একফোঁটা পানি পায় না।
তিনি আরও বলেন, পানি শুধু ফসল ফলানোর জন্য নয়, আগামীতে সুপেয় পানির অভাবেও হাজার জাতের রোগবালাই দেখা দেবে। পানির আরেক নাম জীবন। এই জীবন শুধু মানুষের নয়, সমস্ত জীবকূলের জন্য।
জামায়াত আমির বলেন, ‘সে জন্যই তিস্তাপাড় ও তিন নদীপাড়ের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলছি।’