বাসস
  ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৮:৩৩

সরকার পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত ও কৃষক সহায়তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করছে : কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ছবি: সংসদ অধিবেশনের ভিডিও থেকে নেওয়া

সংসদ ভবন, ৩১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, কৃষক সহায়তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং কৃষি উৎপাদন জোরদারে সরকার সমন্বিত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আজ সংসদে বলেন, বর্তমানে সরকারের কাছে ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, যা জুন বা জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত জাতীয় চাহিদা পূরণে সক্ষম। ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাতার ও সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ মূলত এই দুই দেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে এবং আলোচনাগুলো ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একজন প্রতিনিধি (উপদেষ্টা) কাতারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি সংসদকে বলেন, 'আমরা আশা করছি সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় কোনো সমস্যা হবে না।'

২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বেসরকারিভাবে অ-ইউরিয়া সার আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত এবং বোরো মৌসুমের পর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার সার আমদানি ব্যবস্থা পর্যালোচনা করছে এবং কৃষক ও জাতীয় অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে উপযোগী পদ্ধতি গ্রহণ করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, আগে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে সার আমদানি করা হতো। পরে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা হলে কিছু জটিলতা তৈরি হয়। তাই এখন সরকার বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (কুড়িগ্রাম-১) আনোয়ারুল ইসলামের চরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করে কৃষিঋণ, উপকরণ ও সেচ সুবিধা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য লিখিতভাবে জানাবে।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের চাহিদা নিরূপণ করে কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে।

প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কৃষিপণ্য—বিশেষ করে পেঁয়াজ ও আলু—ক্রয়ের প্রস্তাবের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে কম খরচের একটি নতুন পেঁয়াজ সংরক্ষণ প্রযুক্তি চালু করেছে, যার মাধ্যমে স্বল্প বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বায়ু চলাচলের মাধ্যমে পেঁয়াজ তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব।

এছাড়া তিনি জানান, সরকার ইউনিয়ন ও ব্লক পর্যায়ে ডিজিটাল কৃষি কার্ড চালু করছে, যেখানে উৎপাদন ও বিপণনসহ কৃষি সংক্রান্ত সমন্বিত তথ্য ধীরে ধীরে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা কৃষকদের সেবা প্রদান উন্নত করতে সহায়ক হবে।

তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার কৃষকবান্ধব নীতি, কৃষির আধুনিকায়ন এবং সার ও কৃষি উপকরণের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।