বাসস
  ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:২৯

নদী, বিল ও খালে মৎস্য অভয়াশ্রম নিশ্চিত করা হবে : মৎস্যমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। ফাইল ছবি

সংসদ ভবন, ১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষা ও মৎস্য সম্পদ পুনরুদ্ধারে দেশের নদী, বিল ও খালে মৎস্য অভয়াশ্রম নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের জলাশয়গুলোতে মাছের ঐতিহ্যবাহী প্রাচুর্যও পুনরুদ্ধার করা হবে।

আজ সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য আনিসুর রহমান (মাদারীপুর-৩)-এর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রজনন মৌসুমে মাছ রক্ষায়, সরকার ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং হাওর, বিল ও খালসহ স্বাদুপানির জলাশয় সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে। 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী আরও বলেন, নির্দিষ্ট এলাকাকে মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হবে, যেখানে প্রজনন সময়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেন, প্রজনন মৌসুমে, বিশেষ করে ডিম পাড়ার সময় সারা দেশে ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এটি সাধারণত প্রায় দুই মাস স্থায়ী হয়, যাতে করে প্রজাতিটির সঠিক বংশ বিস্তার নিশ্চিত হয়। 

এ সময় জেলেদের আর্থিক কষ্ট লাঘবে, বিনামূল্যে চাল দেওয়া হয় বলে জানান মন্ত্রী।

এ সময় তিনি আরও বলেন, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুধু ইলিশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, নদীর নির্দিষ্ট এলাকা ও অগভীর সমুদ্র অঞ্চলেও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, যেখানে মাছ প্রজনন করে। কারণ প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরলে, ডিম নষ্ট হয় এবং এর ফলে বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রজাতি হুমকির মুখে পড়ে।

হাওর ও অন্যান্য স্বাদু পানির জলাভূমিতে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেন, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন চক্র রক্ষায় স্বাদু পানির জলাশয়েও মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

কৃষি মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে শিং, টাকি ও বোয়ালসহ অনেক দেশীয় স্বাদু পানির মাছ এখন প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংসের কারণে খুব কমই দেখা যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘এ সমস্যা মোকাবিলায় জলাভূমি ও জলপথে সুরক্ষিত অভয়াশ্রম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে করে মাছ আশ্রয় নিতে, ডিম দিতে ও স্বাভাবিকভাবে বংশবিস্তার করতে পারে।’

আমিন উর রশিদ আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ দেশের ঐতিহ্যবাহী মৎস্য সম্পদ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যতে নদী, বিল ও পুকুর আবারও মাছ সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে