বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৪
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৭

জনগণের শক্তিতেই দেশ পুনর্গঠন করবে বিএনপি: তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।  ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল

ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের শক্তির ওপর ভর করেই বিএনপি দেশ পুনর্গঠনের কাজ করবে।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। বহু ত্যাগ, আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে জনগণ আজ সেই অধিকার ফিরে পেয়েছে। এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।’

আজ রোববার রাতে রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলের সানভ্যালী মাঠে ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচনী পথসভায় তারেক রহমান এ কথা বলেন।

এই পথসভায় স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

তারেক রহমান বলেন, গত  কয়েক বছরে দেশে নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু মানুষ ভোট দিতে পারেনি। সারা বাংলাদেশেই মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। কিন্তু এবার ইনশাআল্লাহ জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছে, যারা গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং যারা জীবন উৎসর্গ করেছে— তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই জনগণ আজ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে।

মঞ্চের পাশে উপস্থিত গুম, খুন ও জুলাই মাসের শহীদ পরিবারের সদস্যদের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘তাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই আজ আমরা আমাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেয়েছি। যে কোনো পরিস্থিতিতে আমাদেরকে এ সকল শহীদ পরিবারের পাশে থাকতে হবে।’

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে শুধু ভোট দিলেই হবে না, সঠিক ব্যক্তিকে নির্বাচন করতে হবে। যারা মানুষের বিপদে পাশে থাকে, যারা এলাকার উন্নয়নে কাজ করে এবং যাদের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে— তাদেরকেই জনগণকে বেছে নিতে হবে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরে দেশে মেগা প্রকল্প হয়েছে, কিন্তু এর সঙ্গে হয়েছে মেগা দুর্নীতি। 

মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যদি নেওয়া হতো, তাহলে আজও এই এলাকার মৌলিক সমস্যাগুলো থেকে যেত না।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যাদের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে এবং ভবিষ্যতের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও কর্মসূচি রয়েছে।’

বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহার সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি বিএনপি যে নির্বাচনী ইশতেহার জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে, সেখানে নারী, কৃষক, যুবক ও শ্রমজীবী মানুষসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষের জন্য পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে বিশেষ করে প্রান্তিক ও অসচ্ছল গৃহিণীদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। 

তারেক রহমান বলেন, একইভাবে কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণে সরাসরি সহায়তা দেওয়া হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে চার কোটি তরুণ-যুবকের একটি বড় অংশ বর্তমানে বেকার। বিএনপি সরকার গঠন করলে কারিগরি শিক্ষা, ভোকেশনাল ট্রেনিং ও আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘মা, বোন ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। 

প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিবার ভিত্তিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দেবেন।’

ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করেন তাদের সম্মানজনক জীবনযাপন নিশ্চিত করা হবে বলে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, তাদেরকে সরকারিভাবে সম্মানী দেওয়া হবে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে, কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বিএনপি সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই জনগণের জানমাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’

এ সময় ধানের শীষের প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ধানের শীষ’ তুলে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আপনারা এম এ কাইয়ুমকে ভোট দিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী করুন। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, বিজয়ী হওয়ার পর, ১৩ তারিখ থেকেই সে এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করবে।

তারেক রহমান নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, একটি মহল নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। ভোটারদের এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহসহ বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। 

এ সব অপচেষ্টা রুখে দিতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।

তারেক রহমান বলেন, ‘ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে চলে এলেই দায়িত্ব শেষ নয়। হিসাব বুঝে নিয়ে তারপর ঘরে ফিরতে হবে।’

বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার বারবার তাঁকে দেশ ছাড়তে বললেও, তিনি জনগণকে ছেড়ে যাননি। তিনি সব সময় বলেছেন, বাংলাদেশই তার প্রথম ও শেষ ঠিকানা।

তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশ আমাদের প্রথম ঠিকানা, এই দেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। এই দেশকে আমাদেরকেই গড়তে হবে। সেজন্য আসুন, ১২ তারিখ হবে নির্বাচনের পর  ১৩ তারিখ থেকে দেশ গঠনের যুদ্ধ শুরু হবে। সেই যুদ্ধে আমি আপনাদেরকে পাশে চাই।’

পথসভায় এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যাওয়ার সময় রাস্তার দুই ধারে বিএনপি’র নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের গাড়িবহরকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানায়। মানুষের ভিড় পেরিয়ে সাতটি আসনের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করতে তারেক রহমানের সাড়ে ৭ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। 

প্রতিটি পথসভায় বিপুল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা যায়।