বাসস
  ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২২
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৭

শুধু বগুড়া নয়, পুরো দেশই বঞ্চিত হয়েছে : তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৯ বছর পর নিজের নির্বাচনী এলাকায় জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ছবি : বাসস

কালাম আজাদ

বগুড়া, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : দীর্ঘ ১৯ বছর পর নিজের নির্বাচনী এলাকায় ফিরে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বলেন, ‘নিজের ঘরে এসে কী বলবো, নিজেই তাল হারিয়ে ফেলেছি। আমি ইমোশনাল হয়ে গেছি। ঘরের মানুষের কাছে বলবার কিছু নেই।’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ২২ মিনিটে শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯ বছর আগে দেশে থাকার সময় বগুড়ার মানুষের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতি আজও তার মনে আছে। মানুষের প্রয়োজনে যা দরকার ছিল, তা সরকার নির্ধারিত আইন ও নীতিমালার মধ্যেই করার চেষ্টা করেছি। 

বনানী-মাটিডালি সড়ক, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং গ্যাস সংযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বগুড়া ছিল আমার কাছে একটি মডেল জেলা। বাকি ৬৩টি জেলা কিভাবে সাজানো যায়, তার পরিকল্পনা করতাম বগুড়াকে কেন্দ্র করেই।’

তিনি দাবি করেন, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে যা যা প্রয়োজন, তার সবই বগুড়ায় ছিল এবং সে সময় তারা তা বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলেন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এই নির্বাচন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই জবাবদিহিতামূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে কি না, তা নির্ধারিত হবে। এ জন্য সবাইকে সিরিয়াস ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এলাকার সন্তান কিংবা প্রার্থী—যে পরিচয়েই বলা হোক না কেন, বগুড়ার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার সুযোগ প্রয়োজন। ১২ তারিখের নির্বাচনের পর সবই করা হবে—এমন প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের আস্থা সবচেয়ে বড় শক্তি।

২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মতো বগুড়াকে আবার দেখতে চান উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গত ১৭ বছর শুধু বগুড়া নয়, পুরো দেশই বঞ্চিত হয়েছে। চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য খাতে প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, মেগা প্রকল্পের নামে হয়েছে মেগা দুর্নীতি। দুর্নীতির টুটি চেপে ধরতে হবে।

চাকরি মেধার ভিত্তিতে দেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, বগুড়ার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে, তবে অন্য জেলা যেন বঞ্চিত না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘আজ আমার কিছু দেওয়ার নেই, আমার কিছু চাওয়ার আছে। আপনাদের দোয়া চাই।’ স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই পাশে থাকলেই বাংলাদেশকে একটি সুন্দর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়ার মাটিতে পা রাখেন তারেক রহমান। জনসভায় যোগ দিতে শহরে প্রবেশের সময় সড়কের দু’পাশে অপেক্ষারত হাজার হাজার মানুষের সালাম গ্রহণ করেন এবং হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মঞ্চে তার সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। 

তারা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় সংক্ষিপ্ত গণদোয়ায় অংশ নেন।

জনসভাকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ ও আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। এক নজর তারেক রহমানকে দেখতে অনেকেই আশপাশের উঁচু ভবনের ছাদে দাঁড়িয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। এতে বগুড়ার বাকি ছয়টি আসনের বিএনপি প্রার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।