বাসস
  ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:২২

হাবিপ্রবি’তে মধুর গুণগতমান শনাক্তকরণে গবেষণামূলক কর্মশালা

দিনাজপুর, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-হাবিপ্রবি’তে মধুর বিশুদ্ধতা, গুণগতমান ও প্রকৃত উৎস শনাক্তকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মাল্টি-মোডেল ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবহারের লক্ষ্যে গবেষলামূলক ইনসেপশন কর্মশালা গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল রাত ১১টায় দিনাজপুর হাবিপ্রবি’র জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. খাদেমুল ইসলাম একসংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাসস’কে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভার্চ্যুয়াল ক্লাসরুমে ‘এআই-অ্যানাব্যাল্ড মাল্টি- মডেল ফুশন অব হানি ফিচারস অব অথেনটিসিটি অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাসেসমেন্ট: ফর্ম ল্যাবরেটরি অ্যানালাসিস টু ইন্ডাস্ট্রি অ্যাপ্লিক্যাশনস’ -শীর্ষক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন হাবিপ্রবি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এনামুল্লাহ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নওশের, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুল হাসান খান এবং আইসিইটিইপি’র প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক গাজী মো. নজরুল ইসলাম।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন আরডিজি সাব-প্রকল্পের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।
এতে রিসোর্স পার্সন হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. আতিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড.মাসুদ ইবনে আফজাল এবং অধ্যাপক ড. আরিফ ইফতেখার মাহমুদ।

গবেষণা প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মধুর বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণের একটি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি তৈরি করা। এতে মধুর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও পরীক্ষাগারভিত্তিক তথ্য একত্র করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মধুর সত্যতা ও গুণগতমান নির্ণয়ের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা হবে। গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতে মধু উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ ও শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।

কর্মশালায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এনামুল্লাহ বলেন, হাবিপ্রবি’র গবেষণাকে এখন শুধু গবেষণাগারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; গবেষণার ফলাফলকে মানুষের জীবন ও শিল্পের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগাতে হবে। মধুর মতো কৃষিভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের মান ও বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সময়োপযোগী উদ্যোগ। বিজ্ঞান, কৃষি ও কম্পিউটার প্রযুক্তির সমন্বয়ে এ ধরনের আন্তঃবিষয়ক গবেষণা হাবিপ্রবি’র গবেষণার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মধু উৎপাদন ও বিপণনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ভোক্তার আস্থা অর্জনের জন্য পণ্যের মান নিশ্চিত করা জরুরি। গবেষণার মাধ্যমে যদি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে মধুর গুণগতমান ও বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের প্রযুক্তি তৈরি করা যায়, তাহলে তা কৃষক, উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সবার জন্যই উপকার হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের গবেষণাকে পরীক্ষাগার থেকে শিল্প ক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে খাদ্যপণ্যের গুণমান ও সত্যতা যাচাইয়ে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। মধুর ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের তথ্য একত্রে বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ চালানো গেলে প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির পাশাপাশি আরও দ্রুত ও কার্যকর মান যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

গবেষণাটিতে হাবিপ্রবি’র রসায়ন ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের জ্ঞানকে সমন্বিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কর্মশালাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে বাস্তব শিল্প সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি শিল্পখাতে প্রয়োগের পথ তৈরি করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এ গবেষণার সহযোগী হিসেবে রয়েছে হাবিপ্রবি’র রসায়ন বিভাগ এবং ইন্ডাস্ট্রি সহযোগী হিসেবে রয়েছে ফ্যাক্টরি নেক্সট। প্রকল্পটি আইসিইটিইপির আরডিজি সাব-প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত করা হচ্ছে।

কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২শ’ জন অংশ গ্রহণ করেন।