বাসস
  ০৯ জুলাই ২০২৬, ২০:২৬

একাডেমিক স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রেখে গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধির আশ্বাস ইউজিসি চেয়ারম্যানের

ছবি: বাসস

ঢাকা, ৯ জুলাই, ২০২৬(বাসস): সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গবেষণা বাজেট বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হলেও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ন থাকবে বলে জানিয়েছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

একই সাথে তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে গবেষণা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সুষ্ঠু, কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং দ্রুত অর্থ ছাড়ে সমন্বিত পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।

আজ বৃহস্পতিবার ইউজিসি অডিটোরিয়ামে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের গবেষণা বাজেট বাস্তবায়ন বিষয়ে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ’-এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব কোডের পরিবর্তে ইউজিসির কোডে গবেষণা বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার ফলে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের স্বায়ত্তশাসনের চর্চা বজায় রাখা প্রয়োজন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গবেষণা বাজেট একটি নির্দিষ্ট কোডের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ইউজিসি সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে, তবে এই কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধি সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন এবং সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে গবেষণা খাতে ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপখাতে ব্যয় করা হবে। অর্থবছরের শুরুতেই স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণার জন্য প্রস্তাব আহ্বান করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় গবেষণা প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে ইউজিসিতে পাঠাবে। পরবর্তীতে জাতীয় অগ্রাধিকার ও গবেষণার গুণগত মান বিবেচনা করে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং প্রস্তাব পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করে বলেন, নতুন নিয়মে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ কমবে না, বরং আগের বছরের তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আরও বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাবে। বিশেষ করে দেশের আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও গবেষণা বরাদ্দের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পাবে এবং কোনো বৈষম্য সৃষ্টি হবে না।

গত অর্থবছরের বরাদ্দের তথ্য তুলে ধরে অধ্যাপক মামুন আহমেদ জানান, গত অর্থবছরে গবেষণা খাতে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রায় ৭৯৩ কোটি টাকা এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রায় ৫৬ কোটি টাকা পেয়েছে। ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত এমন ধারণা সঠিক নয়।

তিনি আরও বলেন, গবেষণায় বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশে একটি সমন্বিত গবেষণা ইকোসিস্টেম এবং জাতীয় গবেষণা রিপোজিটরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউজিসির বাস্তবায়নাধীন ‘হিট’ এবং ‘আইসিইটিই’ প্রকল্পের আওতায়ও উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অর্থায়ন করা হচ্ছে।

সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া দেশের ৪৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, তাদের মনোনীত প্রতিনিধি এবং ইউজিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।