বাসস
  ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:২৯
আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৩২

সাতক্ষীরায় দুর্গাপূজার বিশেষ আকর্ষণ দিয়াশলাইয়ের কাঠি ও রেশমী সুতোয় তৈরি প্রতিমা 

ছবি: বাসস

মো. আসাদুজ্জামান 

সাতক্ষীরা, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বাসস) : শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবের প্রধান অনুষঙ্গ দেবী দুর্গার প্রতিমা। দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দিনরাত পরিশ্রম করে রং তুলি আর হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাতক্ষীরার মৃৎ শিল্পীরা। 

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যতিক্রমী প্রতিমা  তৈরির উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর শ্রী  শ্রী দুর্গাপূজা মন্ডপ কর্তৃপক্ষ। প্রচলিত মাটি, খড় ও বাঁশের কাঠামোর বাইরে এবার প্রতিমার সৌন্দর্য্য আরো আকর্ষণীয়ভাবে ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হচ্ছে দেড় লাখের মত দিয়াশলাই এর কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা। এ যেন চোখ জুড়ানো দেবী দুর্গার প্রতিমার নিখুঁত করুকাজ। 

আয়োজকরা দাবি করেন, বাংলাদেশে দিয়াশলাই এর কাঠি ও রেশমী সুতা দিয়ে এ ধরনের প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ এটিই প্রথম। শিল্পীর নিপুণ হাতে দিয়াশলাইয়ের কাঠিই এখন পরিণত হচ্ছে দেবী দুর্গার অলংকারে।

জানা যায়, শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার প্রতিটি পূজা মন্ডপে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে সাজসজ্জা ও প্রতিমা তৈরির কাজ। পূজা শুরু হতে এখনো বেশ কিছুদিন বাকি রয়েছে। তবে, এরই মধ্যে সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর শ্রী শ্রী দুর্গাপূজা মন্ডপের প্রতিমা দেখতে মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় করছেন এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন এলাকার দর্শকরা। কেউবা মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, দুর্গাপূজার দিনগুলোতে সাতক্ষীরার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও দর্শনার্থীরা আসবেন ভিন্নদর্শী এই প্রতিমা দেখতে। চারজন শিল্পী এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মাটির তৈরি প্রতিমার শরীর জুড়ে বিভিন্ন নকশায় একের পর এক দিয়াশলাই এর কাঠি বসিয়ে তৈরি করছেন প্রতিমা। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রেশমি রংয়ের পাটের সুতার সূক্ষ্ম কারুকাজ।

প্রতিমা শিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানান, ২০২৬ সালে তারা ধুলিহর বাজারের ব্রক্ষ্মরাজপুরে দিয়াশলাই (ম্যাচ) এর কাঠি ও রেশমী সুতা দিয়ে একটি প্রতিমা তৈরি করছেন। তার দাবি, ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই সর্ব প্রথম বাংলাদেশে তারাই দিয়াশলাইয়ের কাঠি ও রেশমী সুতা দিয়ে প্রতিমা তৈরি করছেন। এটি তৈরি করতে তাদের এক মাসের বেশি সময় লেগেছে এবং অনেক পরিশ্রমও করেছেন। এতে দেড় লাখের মত দিয়াশলাই এর কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা ব্যবহার করেছেন বলে তিনি জানান। দেবী দুর্গার এই ব্যতিক্রমী প্রতিমা ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে।

ছবি: বাসস

ব্রহ্মরাজপুর পূজা উদ্যাপন কমিটির সহকারী ক্যাশিয়ার অমিত ঘোষ জানান, গত বছর এ মন্দিরে তারা চিনি কানাই ধান দিয়ে প্রতিমা তৈরি করে ভক্ত ও দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে ম্যাচের কাঠি ও রেশমী সুতা দিয়ে প্রতিমা তৈরি করছেন। তবে, ম্যাচের কাঠি একটি দাহ্য পদার্থ তাই অনেকের মধ্যে আগুন লাগার ভয় থাকতে পারে। সেই সংশয় থেকে মুক্তি পেতে এতে বিশেষ এক ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছে। তাই এতে আগুন লাগার কোন সম্ভাবনা নেই। 

ব্রহ্মরাজপুর পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রীতম ঘোষ জানান, আগামী ষষ্ঠী পূজার আগেই ভিন্নধর্মী এই প্রতিমাটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তিনি আরো জানান, এই প্রতিমা তৈরির কাজে শিল্পীদের পারিশ্রমিক ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এবার এই পূজায় ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। ব্যাতিক্রমী এই আয়োজনে খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও বাড়বে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।

দর্শনার্থী সঞ্চিতা ঘোষ বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ব্রহ্মরাজপুর দূর্গা মন্দিরে ভিন্নধর্মী প্রতিমা তৈরি হয়েছে। এই প্রতিমা দেখতে খুবই ভালো লেগেছে। এখানে দিয়াশলাইয়ের কাঠি ও রেশমী সুতা দিয়ে প্রতিমা তৈরি  করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশে আগে কখনও হয়নি। এটিই প্রথম। ইতোমধ্যে এই প্রতিমা দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে।  

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, ‘এ বছর জেলার ৫০০টিরও বেশি পূজা মন্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এসময় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাতক্ষীরার মৃৎ শিল্পীরা। এবার দিয়াশলাইয়ের কাঠি ও রেশমী সুতা দিয়ে ভিন্নধর্মী প্রতিমা তৈরি  হচ্ছে সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুরে। যা ভক্তদের নজর কাড়বে।’ 

তিনি জানান, সবধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে এবার জেলার প্রতিটি মন্ডপে সিসি টিভি ক্যামেরার পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্বেছাসেবক নিয়োজিত থাকবে। তিনি এসময় সাতক্ষীরা জেলাসহ সারা বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা যাতে নির্বিঘ্নে করতে পারেন সেজন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।